দেশের চাহিদা প্রধান্য দিতে হবে সব ক্ষেত্রেই

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে উৎপাদনও বেড়েছে। এক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তারপরও দেশের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগামী পাঁচ বছর ইলিশ রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বুধবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।

বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে বাংলাদেশ। চলতি মাসের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশই উৎপাদিত হচ্ছে এদেশে। ২০১০ সালের ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টনের জায়গায় বর্তমানে ইলিশের উৎপাদন ৫ দশমিক ৩৩ লাখ টন। তারপরও সাধারণ মানুষ বিশেষ করে গ্রামের মানুষ এখনও ইলিশ খেতে পারে না। তুলনামূলক বিচারে ইলিশের দাম বেশি হওয়াই এর কারণ, বলাটা বাহুল্য।

ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে সরকারের ভূমিকা চোখে পড়ার মত। জাটকা ধরা বন্ধ, মা ইলিশ রক্ষা, অবৈধভাবে ইলিশ ধরা বন্ধ, জাল আটক করা, চোরাই পথে ইলিশ পাচার বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেয়ার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। ইলিশ ধরা বন্ধ থাকা অবস্থায় তালিকাভুক্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়াও কাজে লেগেছে। তারপরও ইলিশ ছিল গরিবের নাগালের বাইরে।

এজন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ইলিশ রপ্তানি বন্ধের পদক্ষেপ সরকারের জনবান্ধব ভূমিকাই প্রমাণ করে। শুধু ইলিশই নয়, সার্বিকভাবে দেশে মাছের উৎপাদনও বেড়েছে। ১২ বছর আগে যেখানে মাছের উৎপাদন ছিল ৩০ দশমিক ৬২ লাখ মেট্রিক টন সেখানে এখন ৪৪ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন উৎপাদন হচ্ছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল থেকে জনগণ যাতে বঞ্চিত না হয় সেদিকেও যে সরকারের দৃষ্টি আছে সেটা বোঝা গেল ইলিশ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায়।

দেশের চাহিদা মেটানোর আগেই উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির অর্থ যে জনগণকে বঞ্চিত করা সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সবক্ষেত্রেই দেশের চাহিদাকে প্রাধান্য দেয়া অগ্রাধিকার দাবি করে। আমদানি, রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ