দেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: গুণীজনদের সম্মান করা সবার কর্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘যারা একটা সমাজের জন্য, একটি জাতির জন্য, একটি দেশের জন্য অবদান রাখে- তাদের সম্মান করা এটা মনে করি আমাদের কর্তব্য’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অন্যের সহায়তা না নিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে করে যাচ্ছি’।

বৃহস্পতিবার সকালে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন ৮ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। প্রতিবছর ২৫ মার্চ আমরা এই পুরস্কার দিয়ে থাকি। এবার করোনার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। জাতির জনকের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানও জনসমাগম না করে করার চেষ্টা করেছি। তবে করোনার মধ্যেও আজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ। আমি বলেছি, যেহেতু স্বাধীনতা পুরস্কার, যেভাবেই হোক পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে এটি তুলে দিতে হবে।

সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল হওয়ার কারণেই কিন্তু এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, একটি স্বাধীন দেশ গড়ে তোলার জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা বঙ্গবন্ধু করেননি। কিন্তু তাকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই বিচার বন্ধ করে দেয়। যারা জেলে ছিল তাদের মুক্তি দেয়। যারা পাকিস্তানে ছিল তাদের ফিরিয়ে আনে। পুরস্কৃত করে চাকরি দিয়ে। যে ৭ মার্চের ভাষণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল তা নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাধীনতার কথা এলেই এই বিষয়গুলো মনে পড়ে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা যেন স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারি। বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করবো। উন্নত-সমৃদ্ধ করবো। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষকে স্থবির করে দিয়েছে। মানুষ যেন রক্ষা পায়, অর্থনৈতিক গতিশীলতা যেন থাকে। দেশের মানুষের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সারাবিশ্বই যেন করোনাভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পায়। সবাইকে এখনই সর্তক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যা যা প্রয়োজন ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত কমান্ডার আবদুর রউফ ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুহম্মদ আনোয়ার পাশা।

এছাড়া স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) ও আজিজুর রহমান; চিকিৎসাবিদ্যায় অবদান রাখায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী এবং অধ্যাপক ডা. একেএমএ মুকতাদির; সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য কালীপদ দাস ও অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদারকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষায় অবদান রাখায় ভারতেশ্বরী হোমস প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছে। আট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান এবছর স্বাধীনতা পদক পেল।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ