- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

দেবী দুর্গার বিদায়


স্টাফ রিপোর্টার: শেষ হলো সনাতন হিন্দু ধর্মাবলাম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এবার উৎসব হলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই রাজশাহী নগরীর পদ্মাপাড়ে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। এ বছর সংকট থাকলেও আগামী বছর আগমনের সময় শান্তিময় এক পৃথিবীতে উৎসব ঘটবে এমন প্রত্যাশা করে দেবী দুর্গাকে বিদায় দিলেন ভক্তরা।

সোমবার ছিল বিজয়া দশমী। এই দিনটি শেষ হয় মহাআরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা বা গান-বাজনায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু দেবী দুর্গার উৎসবে মনে রঙ না লাগিয়ে কী থাকা যায়! তাই তো সেই রঙে রাঙা হলো দেবী দুর্গার মুখও। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘট বিসর্জনের পর হয় ‘সিঁদুর বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে।

বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে-অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানান। দুর্গাকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুরটুকু তারা একে-অপরের মুখে মাখেন। একে অনেকে সিঁদুর খেলাও বলে থাকেন। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সিঁদুর খেলার কথা ছিল না।

তারপরও মুখ রঙিন করে হাসি মুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই সিঁদুর খেলায় মাতেন রমনীরা। রীতি অনুযায়ী সধবা নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও সবাই মণ্ডপে ভিড় করেন নেচে গেয়ে এতে অংশ নিতে।

অবিবাহিতরা গালে আর হাতে মাখেন সিঁদুর। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে সিঁদুর খেলায় মত্ত হন তারা। মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে মিষ্টিমুখ করেন, নাচ, গান করেন, যেন সারাটা বছর এমন আনন্দেই কাটে। সিঁদুর বরণের মধ্য দিয়ে ঠিকই সিঁদুরের রঙে রাঙা হয়ে উঠে মায়ের মুখ। আর তা দেখেই যেন শান্তি ভক্তদের। সিঁদুর বরণের আগেই সম্পন্ন হয়েছে দর্পণ বিসর্জন। এরপর বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন হয়। এ বছর ভক্তদের কষ্ট দূর করতে দেবী দুর্গা এসেছিলেন দোলা। বিদায় নিলেন গজে চড়ে।

বিদায়ের সময় শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে নগরীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে এবার বড় বড় ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় ঘাটে। সেই ট্রাকে ওঠেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় চোখে পড়েছে। উৎসবে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, এ বছর করোনার জন্য আমরা সব ধরনের উৎসবের আয়োজনগুলোকে বিরত রেখেছি। সেভাবে আনন্দ উদযাপনের কোনো রেশ নেই। মায়ের কাছে আমরা প্রার্থনা করেছি যেন আমরা আগামীবার একটি সুন্দর উৎসব উদযাপন করতে পারি। আগামী বছর দেবী দুর্গা নিশ্চয় আসবেন এক শান্ত পৃথিবীতে।

রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলে ৪৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলো। এর মধ্যে জেলায় ৪০৮টি এবং মহানগরে ৭০টি পূজামণ্ডপ ছিল। চন্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

সোনালী/আরআর