দুর্গাপুরে গো-খাদ্যের সঙ্কট

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: পতিত জমি কমে যাওয়াসহ নানা কারণে রাজশাহী দুর্গাপুরসহ আশেপাশের উপজেলা গুলোতেও গো খাদ্য সঙ্কট অনেক দিনের। এবার সঙ্কটের সাথে ও বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। সঙ্কটে প্রাণির খাদ্য চাহিদা মেটাতে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন অনেকেই।

উপজেলায় চারণভূমি রয়েছে খুবই সামান্য। গত দুই তিন বছরে উঁচু নিচু জমিতে বিপুল সংখ্যাক পুকুর হওয়ায় বর্তমানে চারদিকে পুকুর ও ফসলি খেত দ্বারা পরিপূর্ণ। ফলে প্রাকৃতিক কাঁচা ঘাসের উৎপাদন খুবই কম।

জানা গেছে, উপজেলায় এখনও বোরো ধান কাটা শুরু হয়নি। নতুন খড় না উঠায় সঙ্কট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। এছাড়াও এবারের বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে ধান ও খড় কোনটাই কাঙ্খিত মাত্রায় উৎপাদন হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন ডোবা নালায় ব্যাপক মাত্রায় কচুরিপানার উৎপাদন হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৫০হাজার গরু মহিষ ছাগল রয়েছে। ফলে প্রচুর গো খাদ্যের চাহিদা রয়েছে। এদিকে মাঠ থেকে কাঙ্খিত মাত্রায় কাঁচা ঘাস সংগ্রহ হচ্ছে না।

বিভিন্ন এলাকার গরু-মহিষের মালিকদের খড়ের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। বাজার এ খড়ের দাম বেশি হওয়ায় অনেকের কেনাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই গরু-মহিষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে পানিতে ভাসমান কচূরীপানার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে অনেকেই। সংকট ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য গবাদি পশুকে খাওয়ানো হচ্ছে কচূরীপানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওপাড়া, কিসমত গনকৈড়, পানানগর, দেলুয়াবাড়ী, ঝাঁলুকা, মাড়িয়া, জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় গরুর খামার। কারো রয়েছে দুগ্ধজাত খামার আবার কেউ শুধুমাত্র কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পালন শুরু করেছেন গরু। এসব খামারে প্রচুর সংকট রয়েছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়-কুটার। অন্যদিকে এলাকার মাঠগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফসল রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও উচু-নিচু ফাঁকা জমি গুলোতে চলছে পুকুর খনন।

ফলে ব্যাহত হয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে ঘাস উৎপাদন। বর্তমানে পর্যাপ্ত ভূমি সংকটের কারণে ঘাস লাগানোর জমিও পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার নামোদুরখালী গ্রামের আইয়ুব আলী জানালেন, আমার তিনটা গরু আছে। বিলে কাঁচা ঘাস পাচ্ছি না। বোরো ধান এখনও কাটা হয়নি। বাজারে খড়ের দামও বেশি। লকডাউনে কাজ না থাকায় আয়ও কমেছে। টাকা না থাকায় খড়ও কিনতে পারছিনা। এ জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন কচূরীপানা সংগ্রহ করছি। কচূরীপানার সাথে সামান্য খড় মিশিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছি।

কোরবান আলী নামের আরেক কৃষক জানান তাঁর বাড়িতে ৫টি গরু আছে। সবই মোটাতাজাকরণের জন্য। আগামী কোরবানিতে বিক্রি করার জন্য লালন-পালন করছেন। নিজ এলাকায় খড়ের দাম বেশি হওয়ায় নওগাঁর থেকে খড় কিনে এনেছেন তিনি। এখন সেই খড়ও প্রায় শেষ। তাই বিভিন্ন ডোবা নালা থেকে কচূরীপানা সংগ্রহ করে খড়ের সাথে মিশিয়ে গরুকে খাওয়াচ্ছি।

খামারিরা জানান, বোরো ধান এখনও কাটা শুরু হয়নি। সর্বত্র গোখাদ্য খড়ের সংকট। উপজেলায় গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও খড়ের আকাশছোঁয়া দাম ভাবনায় ফেলেছে তাদের। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে কচূরীপানা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেকে আবার পশু খাদ্য কিনতে না পেরে গরু হাটে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাঁরা আরও জানান, বিঘা প্রতি ছয় হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়ে ছিল খড়।

এদিকে খামারিদের কারণে সাধারণ গরু লালন-পালনকারীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আবু আনাস বলেন, নানা কারণে উপজেলায় এখন আর পর্যাপ্ত চারণ ভূমি নেই। ফলে অনেক আগ থেকে চাহিদার তুলনায় গো খাদ্যের সংকট রয়েছে। কাঁচা ঘাসের বিকল্প হিসেবে কচূরীপানা খাওয়ানো যেতে পারে। তবে সেটা পরিমাণ মত। কচূরীপানার সাথে খড় মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। কচূরীপানয়া ৮০% পানি রয়েছে। যার ফলে গবাদিপশুকে তেমন পানিও খেতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত কচূরীপানা কচুরিপানা খাওয়ালে গবাদি পশুর সমস্যা হতে পারে। একটি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গরুকে ৩.৪ কেজি পর্যন্ত কচূরীপানার খাওয়ানো যাবে। আর ঘাসের সংকট মেটানোর জন্য কৃত্রিম ঘাস উৎপাদনের জন্য খামারিদের ট্রেনিং দিচ্ছি। যাতে করে কাঁচা ঘাসের সঙ্কট কমে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ