দুর্গাপুরে আ.লীগের মনোনয়ন পেতে ঢাকায় হাফ ডজন নেতা

  • 390
    Shares

মিজান মাহী, দুর্গাপুর: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে তদবিরে এখন রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের হাফ ডজনেরও বেশি নেতা। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সবাই ঢাকায় গিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় একাধিক নেতা এই তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এই পৌরসভায় বিগত দিনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মেয়র নির্বাচিত হলেও এবার পৌরতে নেতৃত্বে আসতে চান আওয়ামী লীগের এক ডজন নেতা। তবে মনোনয়ন দৌড়ে শীর্ষে আছেন দুই থেকে তিনজন।

চুড়ান্ত মনোনয়ন যিনিই পাবেন তাকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেছেন সকলে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নে অধিকতর সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তা নাহলে এ নির্বাচনে ভরাডুবির শঙ্কা তাদের।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের যিনি মনোনয়ন পাবেন, তারই মেয়র নির্বাচিত হবার সম্ভবনা বেশি। দলীয় প্রধান যাকে নৌকার টিকিট দিবেন তার পক্ষেই নেতাকর্মিরা কাজ করবেন। মেয়র প্রার্থী হিসেবে এ পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা সবাই আওয়ামী ঘরানার। অন্য কোনও দলের প্রার্থী বা স্বতন্ত্র কোনও প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে না।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন বর্তমান পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য আমিনুল ইসলাম টুলু, দুর্গাপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক আজাহার আলী, হাসানুজ্জামান সান্টু, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাহাদত হোসেন, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও সুকুমার রায়। তবে লিস্টে তাদের নাম পাঠানো হলেও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে রয়েছেন মাত্র ৬ জন প্রার্থী।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা পৌরসভা এলাকা। প্রতিদিনই প্রার্থীদের সমর্থনে চলছে মোটরসাইকেল শোডাউন, মিটিং, শোভাযাত্রা। তবে সম্ভাব্য এই প্রার্থীরা তফসিল ঘোষণার পরপরই দলীয় মনোনয়ন পেতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন।

কিন্তু এখানকার নির্বাচনে মনোনয়নের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের উপর। ফলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সু-দৃষ্টিতে দুর্গাপুর পৌরসভার হাফ ডজনের বেশি নেতা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

জানা যায়, ২০০২ সালে দুর্গাপুর পৌরসভা ২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠন করা হয়। পৌরসভা গঠনের পর বিএনপির নেতা সাইদুর রহমান মন্টু ২০১০ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১১ সাল থেকে পরপর দুইবার পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। পরপর দু’বার নির্বাচিত হয়ে মেয়র তোফাজ্জল হোসেন পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বলে দাবি তার।

মেয়র তোফাজ্জল হোসেন বলেন, একটি আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তরিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। পৌরসভার প্রতিটি বাড়ি বাড়ি পাকা ও আধা-পাকা রাস্তা, আধুনিক ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির, শ্মশান ঘাট, কবরস্থান, ড্রেন, গণশৌচাগার, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন মেয়র। তিনি বলেন, আশাকরি, আমার কাজের মূল্যায়ন হিসেবে আগামী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম টুলু বলেন- আমাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় আমি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। আমি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দলের সুসময়ে-দুঃসময়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি একজন আদর্শিক কর্মী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো যৌক্তিক দাবিদার।

সাধারণ নেতাকর্মীদের যেমন আমার প্রতি সমর্থন রয়েছে, পৌরসভার নাগরিক সাধারণ ভোটারদেরও আমার প্রতি বিপুল ভালোবাসা রয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সব মিলিয়ে আমাকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব, এটা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন- দীর্ঘকালের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা নিয়ে আসন্ন পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে দল থেকে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল আমার অতীত রাজনীতি মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।

এদিকে, দুর্গাপুর পৌরবাসীর দাবি পৌর-এলাকার নাগরিকদের সকল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে যেন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়া হয়।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ