‘দুঃসময়ে বিনা পয়সায় আ.লীগ নেতাদের মামলা লড়তেন এড. সাহারা খাতুন’

  • 588
    Shares
এডভোকেট সাহারা খাতুন। ছবি: সোনালী সংবাদ

।।ড. মো. হাসিবুল আলম প্রধান।।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এডভোকেট সাহারা খাতুন গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

সাহারা খাতুন জ্বর ও অ্যালার্জির সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় অসুস্থ হয়ে গত ২ জুন ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে বেশ কয়েক দফায় আইসিইউতে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে গত ৬ই জুলাই থাইল্যান্ডে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তাঁর মরদেহ বিশেষ ব্যবস্থায় ১০ জুলাই শুক্রবার রাতে থাইল্যান্ড থেকে দেশে আনা হয়।

গত ১১ জুলাই জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাঁকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এক বর্ষীয়ান, সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিকের চিরবিদায় হলো, বাংলাদেশ হারালো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বলীয়ান এক আলোকিত বাতিঘরকে।

তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারী নেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।’

এই নিবেদিত রাজনীতিবিদকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল বলে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও তাঁর ত্যাগের রাজনীতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবার জন্য বিবেকের জায়গা থেকে এই লেখার অবতারণা।

সাহারা খাতুনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায়। শিক্ষাজীবনে তিনি বিএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।

১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠিত হলে তাতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং আাইভি রহমানের নেতৃত্বে সারা ঢাকা শহরের মহিলাদের সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন।

তিনি প্রথমে নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা নিযুক্ত হন, পরে মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নিযুক্ত হন।পরবর্তীতে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং একই সাথে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদিকা নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এই নিবেদিত রাজনীতিবিদ তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে গত কয়েক মেয়াদ ধরেই আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ঊনসত্তরের গণ আন্দোলন, দেশ স্বাধীনের আন্দোলন, ৭৫’র ১৫ই আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর সকল অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়া সরকারের সকল নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাহারা আপা সর্বদা সক্রিয় আন্দোলন করেছেন রাজপথে।

এডভোকেট সাহারা খাতুন গত তিন মেয়াদে ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে স্বরাষ্ট্র এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির বিডিআর বিদ্রোহ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। এর মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।

সেনা সমর্থিত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গ্রেফতারের পর সাহারা খাতুন আদালতে ও রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। একপর্যায়ে তিনিসহ দলীয় আইনজীবীদের আইনী লড়াইয়ে শেখ হাসিনাকে মুক্ত করেন। তিনি ছিলেন কল্যাণমূলক রাজনীতির অগ্রদূত ও ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসনার খুব প্রিয়।

১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসের দিকের কথা , তখনও মাস্টার্সের রেজাল্ট হয়নি, আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু এবং সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকার কারণে ঢাকায় আগমন।  যেহেতু ছাত্র জীবনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পত্রিকা দৈনিক আজকের কাগজের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছি এবং আইনের ছাত্র ও বার কাউন্সিলের তালিকাভ‚ক্ত আইনজীবী , তাই আজকের কাগজ কর্তৃপক্ষ আমাকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানির উপর রির্পোটিং করার জন্য ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ থেকে আদালত প্রতিবেদক হিসেবে নিয়োগ দিলো।

আজকের কাগজের আদালত প্রতিবেদক হিসেবে আমি যোগদানের আগে থেকে আজকের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার শহীদুজ্জামান ভাই বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানির উপর রিপোর্টিং করতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পত্রিকা দৈনিক আজকের কাগজের আদালত প্রতিবেদক হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানিতে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন খবরাদি পত্রিকায় প্রকাশ আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা এবং আবেগঘন মূহুর্ত।

নিরাপত্তার খাতিরে তখন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের আদালত/ বিশেষ এজলাস স্থাপিত হয়েছিলো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দ্বিতল লাল ভবনে। প্রথম ২৯ অক্টোবর যেদিন আদালতে অনেকগুলো নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে আদালতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলাম যেখানে পলাতকরা বাদে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আটককৃত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের আত্মস্বীকৃত খুনী লে. কর্ণেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্ণেল (অব:) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ, লে. কর্ণেল (অব:) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), তাহেরউদ্দিন ঠাকুর প্রমুখকে দেখে হৃদয়ে তীব্র ঘৃণার সঞ্চারিত হলো এবং সেই ঘৃণার চোখ দিয়ে ঘাতকদের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম এই কুলাঙ্গার নিষ্ঠুর ঘাতকরা বাঙালি জাতির পিতা ইতিহাসের অবিসংবাদিত মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কিত করেছে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল আদালতে আসলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় , বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সরকার পক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিরাজুল হকসহ অন্যান্য কৌসুলি ও আইনজীবী, আসামী পক্ষের আইনজীবী এবং সাংবাদিকসহ পুরো আদালত ভরা।

প্রথম দিন যেদিন আদালতে যাই সেদিন দেখা হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সরকার পক্ষের কৌঁসুলি এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের (বর্তমানে রেলমন্ত্রী) সাথে যিনি পূর্ব থেকেই আমাকে চিনতেন এবং অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তাঁর মাধ্যমেই শুনানি চলাকালে প্রথম এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) আপার সাথে পরিচয় হয় যিনি মামলার শুরু থেকেই সরকার পক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলার শুনানি, পরিচালনা ও সমন্বয় নিয়ে দিন-রাত কাজ করছিলেন।

পরবর্তীতে এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সরকার পক্ষের কৌঁসুলি স্পেশাল পিপি রমজান আলী খান, পিপি আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত পিপি এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম (সাবেক খাদ্যমন্ত্রী), স্পেশাল পিপি এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, স্পেশাল পিপি এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল, এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইলাম বাহার, এ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, এ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল ও এ্যাডভোকেট নাজমা আক্তার প্রমুখের সাথে পরিচয় হয় এবং শুনানির দিন তাঁদের সাথে প্রায়ই দেখা হতো।

সাংবাদিক হিসেবে যতদূর মনে পড়ে প্রণব সাহা, জ. ই মামুন ও মাইদুল ইসলাম রাজু ভাই প্রমুখ প্রতিদিন শুনানিতে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁদের সাথে আমার সখ্যতা ছিল বেশী। পরিচয় হওয়ার পর প্রায়ই শুনানির দিন এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন আপার সাথে দেখা হতো, মাঝে মাঝে তাঁর সাথেই গাড়ীতে কয়েকদিন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানি শেষে ফিরেছি। মামলা নিয়ে আপা সার্বক্ষনিক চিন্তা করতেন যেন খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাহারা খাতুনের অবদান সম্পর্কে সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মুষড়ে পড়েন এবং বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ওনাকে এই মামলায় বিচারের উদ্দেশে কাজ করতে দেখেছি।’

ইতিপূর্বে ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসে অনার্স পরীক্ষার পরপরই আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছি। সাহারা আপা তখন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নিয়ে কাজ করছিলেন, আপা বললেন তোকে সদস্য হতে হবে। আমার সাথে গাড়ীতে উঠ।

তখন আপা লাল রং-এর একটি ইন্ডিয়ান জীপে চড়ে বেড়াতেন। আপার সাথে গাড়ীতে উঠে তাঁর চেম্বারে গেলাম এবং আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য হলাম। একজন অসামান্য ত্যাগী ও সৎ রাজনীতিক হিসেবে তখন থেকেই অগাধ শ্রদ্ধা ছিল সাহারা আপার প্রতি।

আমার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হবার পর ১৯৯৮ সালের ২ আগস্টে আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। এরপর অনেকদিন আপার সাথে যোগাযোগ ছিল না।

দুঃসময়ে সাহারা আপা জ্বলে উঠেছেন আপন মহিমায়। আগুনের মত নিজস্ব একটা দীপ্তিতে জ্বলে উঠেছেন অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে। সরকার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুলিশের লাঠি চার্জ, টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে আপা চলেছেন নিজস্ব শক্তি আর সততার আদর্শে বলীয়ান হয়ে।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট শাসিত সরকার ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের প্রতি নেমে এসেছিল বিভীষিকাময় এক নির্যাতন।

আমরা দেখলাম- ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট কিভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে একটি জনসভায় চালানো হয় গ্রেনেড হামলা, হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীকে।

ওয়ান ইলেভেনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই দুর্দিনের দুঃসময়ে যে কয়জন নেতা-নেত্রী সাহসী ভ‚মিকা রেখেছিলেন তাঁদের একজন সাহারা আপা। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যখন জননেত্রী শেখ হাসিনা জেলে, আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা যখন মাইনাস ফর্মূলাকে সমর্থন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে লিয়াজো চালিয়েছিল, সেদিনও সাহারা আপা ছিলেন নেত্রীর মুক্তির দাবীতে রাজপথের এক লড়াকু সৈনিক। শুধু তাই নয় সেই দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের বহুসংখ্যক নেতাকর্মীর মামলায় বিনা পয়সায় লড়েছেন।

সে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ কর্তৃক সরকার গঠিত হলে সাহারা আপাকে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং পরবর্তীতে নেওয়া হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পদে।

আপা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবস্থায় একদিন দেখা করতে গিয়েছিলাম দেখি আপার সামান্যতম পরিবর্তন নেই, সেই ১৯৯৭ সালের অক্টোবরের দিকে প্রথম পরিচয়ে আপাকে যেমন একজন সহজ সরল সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখেছিলাম, মন্ত্রী হবার পরও আপার সেই সরলতা ও সহজ জীবন যাপনের অভ্যস্ততায় কোন পরিবর্তন হয়নি।

সাহারা আপা চলে গেছেন না ফেরার দেশে কিন্তু তিনি রাজনীতিতে রেখে গেছেন ত্যাগ আর সততার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনীতির জন্য বিয়ে, সংসার কোন কিছুই না করে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

এরকম একজন মহান নেতার চির বিদায়ে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলো। সাহারা আপা আপনি বেঁচে থাকবেন আওয়ামী লীগের ত্যাগ আর সততার রাজনীতিতে, আপনি বেঁচে থাকবেন আওয়ামী লীগের হাজার হাজার পরীক্ষিত কর্মীদের মননে। কবি গুরুর ন্যায় বলতে হয়- নয়নের সম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছো যে ঠাঁই।

লেখক: প্রফেসর, আইন বিভাগ ও পরিচালক, টিএসসিসি, রাবি। যোগাযোগ: ই-মেইল- Email: [email protected]

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ