দীর্ঘ সঙ্কটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা নেই বিপিসির

সোনালী ডেস্ক: দীর্ঘসময় জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে পারে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। বিশে^র অধিকাংশ দেশ জরুরি অবস্থায় দীর্ঘদিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখে। কিন্তু বিপিসি’র জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় জ্বালানি তেল মজুদ ব্যবস্থা অপ্রতুল। যা দেশের জন্য শঙ্কা সৃষ্টি করছে। ফলে যে কোন সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়তে পারে দেশ। বিপিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এক বছরের জন্য দেশে জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে পারে চীন। আর প্রতিবেশি দেশ ভারত কমপক্ষে ৬ মাসের জ্বালানি তেলের মজুদ রাখতে পারে। কিন্তু বিপিসি মাত্র ৪২ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে পারে। যদিও বিপিসি তাদের সব প্রকাশনায় দাবি করছে দেশে ২ মাসের জ্বালানি তেল মজুদ রাখা সম্ভব। তার মধ্যে ডিপোগুলোতেক ৩৬ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখা যায়। আর তেল ট্যাঙ্কারে পরিবহন অবস্থায় থাকে ৬ দিনের জ্বালানি। এমন পরিস্থিতিতে দেশে জ¦ালানি তেলের মজুদের সক্ষমতা আরো জরুরি। তাহলে সঙ্কটকালীন সময় মোকাবেলা করা সহজ হবে। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষ পরিস্থিতিতে বন্দর বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি তেল পরিবহন করা যেত না। তখন দেশে জ্বালানি তেলের সঙ্কট তৈরি হতো। তবে এদেশের অধিকাংশ জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যবহৃত সিঙ্গাপুর বন্দর সচল থাকায় এখন ওই শঙ্কা নেই। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিলে জ¦ালানি তেল নিয়ে দেশ বিপাকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন ধরনের আপদকালীন সময় মোকাবিলা করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প হাতে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র জানায়, বিপিসির জ¦ালানি তেলের মজুদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত জমি এবং অর্থ রয়েছে। তারপরও প্রকল্প হাতে না নেয়াতে এতোদিন তা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বিপিসির তহবিলে ২১ হাজার কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। যা ব্যয় করে অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব। গত বছর ২০১৯ সালে বিপিসি পরিশোধিত-অপরিশোধিত মিলিয়ে ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। তার মধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ ৪২ লাখ ২৮ হাজার ২০০ মেট্রিক টন এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২৮ মেট্রিকটন। দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইরানিতে ৫ লাখ ৬ হাজার ৪১০ মেট্রিকটন জ্বালানি তেল মজুদ রাখা যায়। ইআরএল প্রথমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে জ্বালানি পরিশোধন করে তাদের অয়েল ট্যাঙ্কে মজুদ করে। তারপর ওই তেল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের ৩টি তেল বিপণন কোম্পানির মজুদ ক্ষমতা হচ্ছে পদ্মার ২ লাখ ৮৯ লাখ ৭৭২ মেট্রিক টন, যমুনার ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এবং মেঘনার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন। ওই ৩টি জ¦ালানি তেল বিপণন কোম্পানির যেসব তেলের ডিপো রয়েছে, সেখানে জ্বালানি তেল মজুদ করার জন্য আরো অয়েল ট্যাঙ্কার নির্মাণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে জ্বালানি বিভাগের প্রকল্প হাতে নেয়া উচিত। যদিও জ্বালানি খাতে সরকারের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে কিছুটা ধীর গতি রয়েছে। ফলে অধিকাংশই প্রকল্পই দীর্ঘসময় ধরে ঝুলে থাকে।
এদিকে বিপিসি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এবং হযরত শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত তেলের পাইপ লাইন নির্মাণ করছে। দেশের শিল্প বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় অয়েল ট্যাঙ্কারে করে চট্টগ্রাম সব থেকে বেশি তেল আনা হয়। পাইপ লাইন নির্মাণের ফলে অয়েল ট্যাঙ্কারগুলোর পরিবহন করার আর প্রয়োজন পড়বে না। সেক্ষেত্রে অয়েল ট্যাঙ্কারের পরিবহনজনিত যে মজুদ থাকতো, তাও আর থাকবে না। তখন বিপিসির জ্বালানি তেল মজুদের ক্ষমতা আরও কমে যাবে। বর্তমানে দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের অধিকাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসে। তারপর সেখান থেকে নৌ, সড়ক এবং রেলপথে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে পৌঁছে দেয়া হয়।

শর্টলিংকঃ