দল অমান্য প্রার্থীদের ছাড় দিচ্ছে না আ.লীগ​

  • 17
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের কোনো ছাড় দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দল অমান্যকারী এসব প্রার্থীদের বিষয়ে খোদ দলের সভাপতি শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে ভোটে যাওয়া এসব প্রার্থীরা কোনো রকম ছাড় পাচ্ছেন না বলেই আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের ভাষ্য। এমনকি ভোটে জয়-পরাজয় যাই হোক তারা আর দলীয় মূল্যায়নে থাকবেন না বলেও হুঁশিয়ার করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচন এলেই আওয়ামী লীগে শুরু হয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তীব্র প্রতিযোগীতা। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে এর তীব্রতা বেড়ে যায়। সবশেষ দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে একজনকে প্রার্থী করা হলেও হিমশিম খেতে হয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দিতে।

তাই এবার পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে হার্ডলাইনে আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করেছে তারা দলে জায়গা হবে না। দেয়া হবে না কোনো পদ পদবী।

আ.লীগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও খুব একটা কার্যকর হয়নি। তবে এবার খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও এদের ব্যাপারে কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে শেষ হওয়া দুই দফা ভোটে ৩৭জন বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন। এদের মধ্যে প্রথম দফায় নির্বাচিত হয়েছিলেন দুইজন। আর গত শনিবারের নির্বাচনে জিতেছেন পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করার বিষয়ে এসব বিদ্রোহীদের আছে নানা যুক্তি। তাদের ভাষ্য, অর্থ এবং লবিংয়ে পিছিয়ে থাকায় জনপ্রিয়তা থাকার পরও তারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপের কারণেই তারা নির্বাচনের মাঠে থাকছেন।

বরগুনার বর্তমান মেয়র শাহদাত হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন। তার দাবি, জনগণের ভালোবাসার কাছে নতি স্বীকার করে নৌকার বিপক্ষে ভোটে দাড়িয়েছি। গেল নির্বাচনে ভোটাররা নৌকার বিপক্ষে গিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছে। সেই ধারাবাহিকতা এবারও থাকবে।

অন্যদিকে দলের পক্ষ থেকে কখনো কখনো প্রার্থী মনোনয়ন করা নিয়েও তৃনমূলে ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে। গত বুধবার রাতে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে আশরাফ হোসেনকে প্রার্থী করা হয়। নরসিংদী পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফ সাবেক মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তার মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নরসিংদীতে তোলপাড় শুরু হয়। মনোনয়ন বদলের জন্য স্থানীয় নেতারা দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেন। পরে আশরাফের বদলে আমজাদ হোসেন বাচ্চুকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ।

এদিকে বিদ্রোহীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না এবং দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা জয়ী কিংবা পরাজিত হোক পরবর্তী নির্বাচনে আর মনোনয়ন পাবে না। এটাই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত।’

দলীয় তথ্যমতে, প্রথম ধাপের ২৫টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় ফরম নিয়েছিলেন ১০৬ জন। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরও পৌরসভাগুলোয় ১৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন পর দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে ছিলেন ১০ জন বিদ্রোহী। এর মধ্যে দুজন ভোটে জিতেছেন।

এই অবস্থার খুব বদল হয়নি দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও। এই ধাপে ৬১ পৌরসভায় ফরম কিনেছিলেন ৩১২ জন। এরমধ্যে ১৬টিতে ২১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেককে এরই মধ্যে দল থেকে বহিষ্কার বা বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবুও কেউ মাঠ ছাড়েননি।

শনিবার অনুষ্ঠিত ৬০টি পৌরসভার মধ্যে ৫৯টির ফলাফল পাওয়া গেছে। কিশোরগঞ্জ সদরের ফল স্থগিত রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৫৯টির মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪৬টি, বিএনপি চারটি এবং অন্যান্যরা ৯টি। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পাঁচজন বিজয়ী হয়েছেন।

জানা গেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখেও দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। এ দুটি ধাপের নির্বাচনী মাঠেও বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এই বিদ্রোহীদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যাতে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য ভোটের আগ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর ব্যর্থ হলে নির্বাচনের শেষে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলেছি, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা নির্বাচন করেছে তাদেরকে প্রথমত বিদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা আগামীতে কখনোই দলের কোনো স্তরে মনোনয়ন আর পাবেন না। দ্বিতীয়ত ভবিষ্যতে তারা কোনো পদ পদবী পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে তারা নৌকা পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শাস্তি দেয়ার পর অতীতে ক্ষমাও করা হয়েছে। এরফলে অনেকের মধ্যে এ শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার আমাদের নেত্রী এ ব্যাপারে কঠোর আছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কাউকে ছাড় দিবেন না।’

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ