থানা অভিযোগ দিয়ে ফিরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: থানায় অভিযোগের পরের দিন পানের বরজ থেকে মরদেহ উদ্ধার হলো গৃহবধূ রফেলার (৪২)। পরিবারের দাবি, রফেলাকে হত্যার পর স্বামী রতন ও তার স্ত্রী পানবরজে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, রফেলা আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
এ নিয়ে নিহতের ভাই মনসুর রহমান বাদি হয়ে বাগমারা থানায় দুলাভাই ও তার আগের স্ত্রীর বির্বদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০৬ ধারায়। এর আগে গত শনিবার সকালে বাগমারার হাসনিপুর এলাকার রতনের পানের বরজ থেকে গৃহবধূ রফেলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাগমারা থানার এসআই কামর্বজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার বিকালে রফেলা থানা অভিযোগ দিতে আসেন স্বামী ও তার স্ত্রী (সতীন) নির্যাতন করেছে বলে। অভিযুক্তরা রফেলাকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এ নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি চলছে।
এসময় এসআই কামর্বজ্জামান রফেলাকে বলেন, আপনি বাড়িতে যান। এ নিয়ে আমি রতনের সঙ্গে কথা বলে মিমাংসার ব্যবস’া করা হবে। পরে মাগরিবের দিকে রফেলা বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে ফিরে এসআইকে রাত ৮টার দিকে ফোনে কথা বলে মোবাইল নম্বর দেন রফেলা। এসআই বলেন, প্রায় তিন মাস আগে রফেলা ও রতন থানায় এসেছিলেন। রফেলার ছেলে বাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না বলে। ওইদিন এসআই কামর্বজ্জামান রফেলার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। তার পর থেকেই ভালোই চলছিলো।
মামলার বাদি মনসুর রহমান বলেন, তার বোনকে প্রায় মারধর করতো রতন। এনিয়ে শুক্রবার রাতে বাসায় এসে স্বজনদের বলে, আমি ভাত খাবো না রতনের। আর রতনের বাড়িতে যাবোও না। একই দিনে রাত ১০ দিকে বাড়ির বাইরে বের হয় রফেলা। এর পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রফেলাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী রতনের পানের বরজে রফেলার মরদেহ দেখে। পরে বাগমারা থানায় জানানো হয়। পুলিশ এসে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) মর্গে নিয়ে যায়। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গত রোববার দাফন করা হয়।
মামলার বাদি মনসুর রহমান বলেন, এই মামলায় রতন ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে তাদের পুলিশ গ্রেপ্তারের কোন ব্যবস’া গ্রহণ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে আসামিরা এলাকায় আসলে থানায় জানাতে।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, স্বামী খাবার দিতো না এমন অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে মরদেহ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। এই মামলায় দুই আসামির মধ্যে একজনকেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শর্টলিংকঃ