তানোরে চক্ষু সেবার নামে রোগী ধরার ফাঁদ!

  • 29
    Shares


তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে স্বল্প মূল্যে চক্ষু সেবার নামে রোগী ধরার ফাঁদ পাতা হয়েছে। তানোরের তালন্দ আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এই ফাঁদ পেতেছে রাজশাহীর আমানা ক্লিনিক। একদিনের এই চক্ষু সেবার আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি। তানোরে আমানা হাসপাতালের একজন প্রোগ্রামার রোগী দেখছেন। তিনি তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন আমানা ক্লিনিকে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ক্লাশ রুমে ৫০ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখা হচ্ছে। তারপর ওষুধসহ অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর ঝাউতলা মোড়ের আমানা ক্লিনিকে আসার জন্য রোগীদের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে ভর্তির স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন আগে থেকে এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহীর প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আমিনুর রশিদ আকন্দ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চক্ষু সেবা প্রদান করবেন। কিন্তু সরেজমিনে তাকে পাওয়া যায়নি। রোগী দেখছিলেন একজন প্রোগ্রামার।

অথচ লিফলেটে আকর্ষণীয় ঘোষণা দিয়ে এলাকার দরিদ্র শ্রেণির সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে রোগীর চোখ দেখে কারো হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন আমানা ক্লিনিকের ভর্তি হয়ে অপারেশনের স্লিপ আবার কারো হাতে নামি দামি ওষুধের পেশক্রিপশন। এসব রোগীরা আমানা ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে পারবে না এমন কথা বলা হচ্ছে রোগীদের।

এক্ষেত্রে যেসব রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন তাদের কাছ থেকে ভর্তির জন্য অগ্রিম টাকাও নেয়া হচ্ছে। লিফলেটে সার্বিক সহযোগীতায় তথ্য ও যোগাযোগের ঠিকানায় তালন্দ আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তালন্দ আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে ঢুকতেই চোখ পড়ে পুর্ব দিকের ভবনের সামনে ব্যানার। তার পাশেই বারান্দায় অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন বয়সী বেশ কিছু নারী-পুরুষ রোগী।

বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন নিজ অফিস কক্ষেই বসে আছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানি না, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে তাদেরকে এখানে চিকিৎসা সেবার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাবুকে ফোনে ডেকে নেন।

মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, তারা এলাকার দরিদ্র রোগীদের অল্প খরচে চিকিৎসা সেবা দিবেন এমন কথায় তাদেরকে স্কুল ঘর ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কিছুই জানি না। পরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা রোগীদের কাছে গিয়ে দেখা যায়, একজন সিরিয়াল লিখছেন। তিনি তার পরিচয়ে বলেন, রাজশাহীর আমানা ক্লিনিকের প্রোগ্রামার সাহিন আলম। কক্ষের ভেতরে যিনি রোগী দেখছিলেন তিনিও একজন প্রোগ্রামার বলে জানান সাহিন আলম। তার নাম মেহেদী হাসান।

ডা. আমিনুর রশিদ আকন্দের পরিচয় দিয়ে লিফলেট ও ব্যানার লাগানো হলেও তিনি না থাকার কারণ জানতে চাইলে সাহিন বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় প্রোগ্রাম ঠিক করে ক্যাম্পে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে আমানা ক্লিনিকে এসে চিকিৎসা-অপারেশন করার স্লিপ দিয়ে থাকি।

এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তালন্দ আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেনের নাম ও বিদ্যালয় ব্যবহার করে চক্ষু সেবার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকদিন আগে এই চক্রটি মাদারীপুর বাজারেও এমন সেবা প্রদানের কথা বলে দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ