তানোরে কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

মিজানুর রহমান, মুন্ডুমালা প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় বাড়ির পাশের পতিত জমি ও পুকুর পাড়ে এই ফসল চাষে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কলা চাষ করে এ উপজেলায় স্বাবলম্বীও হচ্ছেন অনেকেই।

উপজেলার একাধিক চাষি বলেন, কলা চাষ করে অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কলা চাষে প্রথম অবস্থায় সাথি ফসল হিসাবে মসলা জাতীয় ফসল, সকল ধরনের সবজি, ধানসহ অন্যান্য ফসলও আবাদ করা যায়। কলা গাছের চারা রোপনের অল্প দিনের মধ্যে বেড়ে উঠে এবং দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

বৈশাখ মাসে কলা চারা রোপন করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফলন পাওয়া যায়। যে সব জমিতে পানি জমে না সে সব জমিতে কলা চাষ ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষের জন্য জাতভেদে আড়াইশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ কলা চারা রোপন করা যায়।
একটি কলা গাছ দেড় থেকে দুই মণ পর্যন্ত কলা দিতে পারে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২৩ হাজার টাকা খরচ হলেও তিন-চার গুণ টাকার কলা বিক্রি করা যায়। একবার কলা চারা রোপন করলে একটানা তিন বছর ভালোভাবে ফলন দিতে পারে। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব হয় না।

এখানকার কলা ভালোমান হওয়ায় স্বল্প পরিসরে হলেও আশাপাশের উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় করে দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে তারা বিক্রি করে।

জানা যায়, বাণাজ্যিক ভিত্তিতে চাঁপা, মহেরে সাগর, মানিকসহ বিভিন্ন জাতের কলার চাষ করা হয়েছে। এসব জাতের কলা গাছ থেকে অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়।

উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার ১ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। তাছাড়া এগারো বিঘার পুকুরপাড় জুড়ে কলা চাষ করেছি। পুকুর পাড়ে খরচ কম হলেও প্রতি বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কলা বিক্রি করতে কোন ঝামেলা হয় না। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে কলা পাইকাররা এসে কলা নিয়ে যায় এবং স্থানীয় বাজারে আমাদের কলা বিক্রি করা যায়। বাজারে কলার ভালো চাহিদা আছে।

চাষি আলামিন হোসেন ও জাফর মিয়া বলেন, আমাদের অঞ্চলে কলার ভালো ফলন হয়। এখানকার স্থানীয় চাষি ও কৃষকরা পাশের পতিত জমি ও পুকুর পাড়ে কলা আবাদ করে কোন ধরনের লোকসান না হওয়ায় দিনদিন আগ্রহ বেড়ে চলছে। এখানকার প্রতি কাঁদি কলা প্রকারভেদে সাগর কলা ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, সবজি কলা (আনাজ) ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, চাপা কলা ১৭০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এ অঞ্চলের কলা দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে স্বল্প পরিসরে হলেও কলার হাট বসে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এবার প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। লাভবান হওয়ায় চাষি ও কৃষকদের কলা চাষের দিকে আগ্রহ বেড়েই চলছে। তেমন কোন ঝামেলা না থাকায় স্থানীয়রা এই ফসল চাষ করছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকেও কলা চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে যাতে করে চাষি ও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ