তথ্য গোপনের অভিযোগে নবনির্বাচিত মেয়রের নামে পরাজিত প্রার্থীর মামলা

  • 35
    Shares


স্টাফ রিপোর্টার: নবনির্বাচিত মেয়রের স্ত্রী পৌরসভার তালিকাভুক্ত ঠিকাদার। বর্তমানে তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৌরসভার একটি ঠিকাদারি কাজ চলমান রয়েছে। এই তথ্য গোপন করে নির্বাচন করার অভিযোগে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডমালা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মো. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত পরাজিত প্রার্থী আমির হোসেন ওরফে আমিন। গত রোববার রাজশাহীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে এই মামলা করা হয়।

মামলায় প্রধান প্রতিপক্ষ করা হয়েছে নির্বাচিত মেয়র সাইদুর রহমানকে। এ ছাড়া প্রতিপক্ষ করা হয়েছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ কবির, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও আপিল কর্তৃপক্ষ, তানোর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও মুণ্ডমালা পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে।

মামলার আরজিতে বলা হয়, ১ নম্বর প্রতিপক্ষ সাইদুর রহমান মুণ্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার অযোগ্য ছিলেন মর্মে ঘোষণাসহ তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে মামলার বাদীকে মেয়র হিসেবে ঘোষণাসহ তাঁর নামে গেজেট প্রকাশ ও শপথবাক্য পাঠ করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রার্থনা জানানো হয়েছে।

গত ৩০ জানুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মামলার বাদী আমির হোসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচিত মেয়র সাইদুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। ২ নম্বর প্রতিপক্ষ বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫৯ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমির হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৯৮ ভোট। বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৮১ ভোট। ৬১ ভোটের ব্যবধানে সাইদুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, মেয়র সাইদুর রহমানের স্ত্রী মোসা. সহিদা বেগম ওরফে মোসা. সাহিদা বেগম প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সাগর ট্রেডার্স। তিনি মুণ্ডমালা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্ত তালিকাভুক্ত ঠিকাদার ও সরবরাহকারী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় মালামাল সরবরাহ ও ঠিকাদারি কাজ করছেন। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

পৌরসভার একটি টেন্ডার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। নির্বাচিত মেয়র সাইদুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে মুণ্ডমালা পৌরসভার আর্থিক স্বার্থ থাকায় আইনের বিধান অনুযায়ী সাইদুর রহমান পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ছিলেন। হলফনামায় এই তথ্য গোপন করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরও তার প্রার্থিতা বাতিল করেননি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাইদুর রহমানের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জানতে চাইলে মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, তিনি মামলার বিষয়টি শোনেননি। তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি। তাঁর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনের কোনো ফাঁক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

আমির হোসেনের আইনজীবী এজাজুল হক বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য পৌরসভার সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোনো কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। থাকলে সেই প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। সেই হিসেবে সাইদুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ