ঠিকানাহীনদের ঠিকানা দেয়াই মুজিববর্ষের বড় উপহার

  • 5
    Shares

করোনা প্রাদুর্ভাবে মুজিববর্ষ যথাযথভাবে উদযাপন করা না গেলেও একটা কাজে ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য ঘর ও জমি দিতে পেরেছেন তিনি। গত শনিবার সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জমি ও গৃহ প্রদান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এভাবেই মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের গৃহহীনদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে। ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর দিতে পারার চেয়ে বড় কোনো উৎসব আর কিছু হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেয়া হয়। সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য এক হাজার ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়িগুলো তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে মুজিববর্ষ উদযাপনকালে দেশের ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্পের অধীনে ৭৪৩টি ব্যারাক তৈরি করা হয়েছে।

এভাবে গৃহহীনদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করার কর্মসূচি নিয়েছে বর্তমান সরকার যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে। যাতে তারা উন্নত জীবন-যাপন করতে পারে। যাদের থাকার ঘর ছিল না, ঠিকানা ছিল না তাদের যেভাবে হোক একটা ঠিকানা দেবার লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত নয় লাখ পরিবারকেই নিজস্ব ঠিকানা দেবার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। এ দেশের লাখ লাখ পরিবার প্রাকৃতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে গৃহহীন-ভূমিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিরাপদ বাসস্থানের স্বপ্নও দেখেছে। অবশেষে মুজিববর্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে স্থায়ী বাসস্থান পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছে হাজারো উদ্বাস্তু পরিবার। এসব ভাগ্যহীন মানুষ এখন মানবিক জীবনের স্বপ্ন পূরণে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যাবার সাহস পাবে, জোর দিয়ে বলা যায়।

হতভাগ্য ঠিকানাহীন মানুষদের জন্য স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার চেয়ে মুজিববর্ষে আর বড় উপহার কি হতে পারে!

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ