টিসিবির কার্যক্রম ক্রেতাবান্ধব হওয়া উচিত

  • 5
    Shares

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এর কার্যক্রম এখন মাঝে মধ্যে খোলা ট্রাকে কিছু পণ্য বিক্রিতে সীমাবদ্ধ। টিসিবির পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়েও ক্রেতাদের রয়েছে অসন্তোষ।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে টিসিবি খোলা ট্রাকে নগরীর কিছু নির্দিষ্ট স্থানে সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ধারিত পণ্য সামগ্রি বিক্রি করে। বাজারে পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন তেলসহ বেশ কিছু পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে টিসিবি এসব পণ্য খোলা ট্রাকে বিক্রির উদ্যোগ নেয়। এজন্য অগ্নিমূল্যের পণ্য বিদেশ থেকে আমদানিও করতে হয়েছে। শুরুতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ, মুসুর ডাল, চিনি, সয়াবিন তেল স্বল্পমূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে ভালোই বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। সব পণ্যের চাহিদা নেই আগের মত।

তাই ক্রেতারা প্রয়োজনমত পণ্য কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। চিনি ও সয়াবিন তেল কিনতে গেলে পেঁয়াজ ও মসুর ডাল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। চারটি পণ্য একসাথে না নিলে কোনো পণ্য দেয়া যাবে না, বলা হচ্ছে। একসাথে চার পণ্যের প্যাকেজ মূল্য ৫শ টাকা। এর মধ্যে ৭ কেজি বিদেশি পেঁয়াজও নিতে হবে। যদিও এসব পেঁয়াজ সম্পর্কে অভিযোগও শোনা যায়।

গত বুধবার রাজশাহী কোর্ট চত্বরে টিসিবি ট্রাকের পণ্য বিক্রেতা গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে প্যাকেজ করে চারটি পণ্য বিক্রি করতে অফিস থেকে নির্দেশ থাকার কথা বলেন। অথচ টিসিবি রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কোনো রকম প্যাকেজের নির্দেশনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

টিসিবির মত সেবামূলক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাজে এমন বিশৃঙ্খলা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। অসৎ ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে রক্ষা করতেই টিসিবির কার্যক্রম ক্রেতাবান্ধব হওয়া উচিৎ। বিক্রির সুনির্দিষ্ট নিয়মের পাশাপাশি পণ্য আমদানির সময়ও ঠিক থাকা দরকার। এখন দেশি পেঁয়াজের মৌসুমে বিদেশি পেঁয়াজ বিক্রিতে জোর খাটানো থেকেই বোঝা যায় সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ এখন কি টিসিবির গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে?

আশা করি এসব বিষয়ের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশু দৃষ্টি দিবেন এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেবেন।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ