‘টাকাটা দে, নইলে গাড়ির চাবিটা দে’

  • 1
    Share
প্রতীকী ছবি

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: ‘কই ভাই টাকাটা দে, নইলে গাড়ির চাবি দে’, ‘এই দেরি করিস না টাকা দে’- এইভাবেই উচ্চস্বরে এক পুকুর থেকে আরেক পুকুরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিজড়াদের দল। কোন পুকুর মালিক টাকা দিতে দেরি হলে কিংবা টাকা না দিতে চাইলে শুরু করেন দুর্ব্যবহার। এমনকি অনেক পুকুর মালিকের লুঙ্গিও টেনে হেঁছড়ে খুলে ফেলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কেউ সম্মানের কথা ভেবে টাকা দিয়ে দেন। আবারও কেউ প্রতিবাদও করেন। তবে হিজড়াদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে কেউ কথা বলছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় একদল হিজড়া দুর্গাপুর উপজেলায় পুকুর খননকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে নতুন পুরাতন মিলে ১৫-২০ জায়গায় পুকুর খনন হচ্ছে। রাজশাহীর জেলা শহর থেকে হিজড়ার দল সাজগোজ করে প্রতিদিন সকালে উপজেলা সদরে আসে। এরপর পুকুর কোথায় হচ্ছে ওই এলাকায় চলে যান। পুুকুরে নেমে হিজড়ারা গাড়ি ঘিরে ফেলে মালিকের কাছে থেকে টাকা চেয়ে বসে। টাকা দিতে না চাইলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেয় ও পুকুর মালিককে লাঞ্চিত করে।

জয়নগর এলাকার আহাদ আলী নামের এক পুকুর খননকারী জানান, কি বলবো ভাই পুকুর খনন করার সময় হিজড়ারা এসে পুকুরে চাঁদা দাবি করে। প্রথমে ২০ হাজার, পরে ১০ হাজার, সবশেষ ৫ হাজার টাকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছি। টাকা দিতে না চাইলে আবার খারাপ ব্যবহার করছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলছে না। কি যে এক বিব্রতকর অবস্থা, বুঝানো মুশকিল।

এদিকে দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের শামীম, উজালখলসী গ্রামের রহিদুল, পালশা গ্রামের ইসলাম, কানপাড়া গ্রামের সোহেল রানা জানান, পুকুর খননের সময় হিজড়ার দল তাদের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে। টাকা না নিলে তারা কিছুতেই পুকুর থেকে উঠে না। তাদের চাহিদাও বেশি। ২০, ১০ সবশেষ পুকুর প্রতি ৫ হাজারের নিচে টাকা নেয় না। শুধু টাকা না, এসময় তারা সবার সাথে খারাপ আচারণও করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসমত আলী জানান, এসব বিষয়ে কোন সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাইনি। সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচারণ ও চাঁদা আদায়ে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ