জয় বাংলা কনসার্টে তারুণ্যের জোয়ার

সোনালী ডেস্ক: ছয় বছর ধরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চে জয়বাংলা কনসার্ট হলেও এবার মুজিববর্ষে এই আয়োজনে প্রথম গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার তত্ত¡াবধানে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই কনসার্ট।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এবার কনসার্টে আনা হয় ভিন্ন মাত্রা। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে কনসার্ট চলার মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। স্টেডিয়ামের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত ভিআইপি গ্যালারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর বাছাই করা কয়েকটি উদ্ধৃতির হোর্ডিংয়ে সাজানো হয়েছে ওই ভিআইপি জোন। সঙ্গে স্থান পেয়েছে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতার তর্জনী উচ্চকিত ছবি। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে গ্যালারিতে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং দৌহিত্র ও সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বিকাল থেকে ছিলেন কনসার্টস্থলে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে ২টার দিকে এই কনসার্টের শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৫০ হাজার তরুণ-তরুণী বুকে হাত রেখে কণ্ঠ মেলান জাতীয় সংগীতের সঙ্গে। এরপর বাজানো হয় ‘জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো’ গানটি। গানটির মাধ্যমে শোনানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের একাংশ- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মারিয়া নূরের সঞ্চালনায় এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি ব্যান্ড পারফর্ম করে। তবে বেলার তিনটার পর কনসার্টের মূল পর্ব শুরু হয় ব্যান্ড এফ মাইনরের পরিবেশনা দিয়ে। এরপর একে একে মঞ্চে ওঠেন মিনার রহমান, এভোয়েড রাফা, শূন্য ও ভাইকিংস। সবাই শুরুটা করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান দিয়ে। এরপর নিজেদের গান পরিবেশন করে মাতিয়ে রাখেন উপস্থিত শ্রোতাদের। সন্ধ্যার আগে মঞ্চে আরও ওঠে ব্যান্ড লালন ও আরবোভাইরাস সদস্যরা। এরপর শোনা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। সন্ধ্যার পর মঞ্চ মাতাতে উঠে ক্রিপটিক ফেইট, নেমেসিস, ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ড এবং চিরকুট।
জয় বাংলা কনসার্টের আয়োজক ইয়াং বাংলা জানিয়েছে, ব্যান্ড দলগুলোর গানের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কিছু ঐতিহাসিক উক্তি দিয়ে সাজানো হয় পুরো কনসার্ট। তবে এবারের আয়োজনের বড় চমক হয়ে ছিলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হলোগ্রাফিক রিপ্রেজেন্টেশন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ২৩টি বাক্য বাছাই করে নির্মিত হয় এই প্রজেকশন।

শর্টলিংকঃ