জোঁকা বিলে ফের উত্তেজনা

  • 5
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষায় পানি, শুষ্ক মৌসুমে ফসলের ক্ষেত। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের জায়গাটির নাম ‘জোঁকা বিল’। এর আয়তন প্রায় দুই হাজার ২০০ বিঘা। প্রতিবছর এই বিল থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ বিক্রি করা হয়। লাভের টাকা ভাগ হয় উপকারভোগীদের মাঝে।

এই টাকার হিসাব নিয়ে মাঝে মাঝেই ঘটে সংঘর্ষ। ঘটে প্রাণহানি, আহতও হন অনেকে। এখন মাছ ধরার মৌসুমে সেই টাকার হিসাব নিয়েই আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। উত্তেজনা নিরসনের জন্য বিলের দুইজন উপকারভোগী রোববার রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিলে প্রায় ৭০০ ব্যক্তির জমি রয়েছে। আর মাছ চাষের জন্য ৩২ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এলাকাবাসী এবং যাদের জমি রয়েছে তারা উপকারভোগী হিসেবে মাছ বিক্রির টাকার ভাগ পান। বিলে মাছ চাষের জন্য কমিটি শুষ্ক মৌসুমে জমির মালিকদের ফসল চাষাবাদের সেচের ব্যবস্থা করে দেয়। এর খরচ বহন করে কমিটি। বর্ষা মৌসুমে পানি আসার পর সেখানে মাছ চাষ করা হয়। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বিলের মাছ বিক্রি করা হয়। এই টাকা থেকে ফসল সেচের খরচ পরিশোধ করা হয়। এছাড়া সামনের মৌসুমে মাছ চাষের জন্য কিছু টাকা রাখা হয়। বাকি টাকা উপকারভোগীদের মধ্যে ভাগ করা হয়। এভাবেই বাগমারার পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসেন।

এসপির কাছে দেয়া আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দুই বছর ধরে বিলের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব দিচ্ছেন না। কেউ হিসাব চাইলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। টাকার হিসাব চাওয়ার কারণে সম্প্রতি সভাপতি-সম্পাদকের সমর্থকরা ইতোমধ্যে বাসুদেবপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালে আয়-ব্যয়ের হিসাবকে কেন্দ্র করে কমিটির কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান মৃধা খুন হন। এরপর প্রশাসন সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে আবদুর রশিদ ও আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন কমিটি করে দেয়। কিন্তু এই কমিটির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুললেন উপকারভোগীরা। তারা এসপির কাছে আবেদন জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে যেন বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। তা না হলে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার প্রথম বছরে দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছিল। এবার ইতোমধ্যে দুই কোটি ৪৬ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। আরও মাছ আছে। শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিলের জমির মালিকদের বছরে ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকার সেচ খরচ দিতে হয়। মাছ চাষের জন্যও কিছু টাকা রাখতে হয়। সব হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ হিসাব পরে উপস্থাপন করা হবে।

টাকা নয়ছয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ৩২ সদস্যের কমিটি আছে। যারা অভিযোগ করছেন তারা তো এই কমিটির সদস্য নন। তারা সাধারণ সদস্য। কমিটির সদস্য আমাকে এ কথা বললে বুঝতাম আমার কোথাও ভুল হচ্ছে। সাধারণ উপকারভোগীর কথার তো কোন দাম নাই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, একটা লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যা করা প্রয়োজন তারা তা করবেন।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ