জুস খাইয়ে পাঁচজন মিলে যুবককে বলাৎকার

  • 10
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ বছরের এক যুবককে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে পাঁচজন মিলে পালাক্রমে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা আবার ভিডিওতেও ধারণ করা হয়। সেই পাঁচ ব্যক্তি তারই পরিচিত। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চাষ্ষা মোড়া গ্রামে।

ভুক্তভোগী যুবক অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে মুখ খোলা হলে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখায় তারা। এরপরও থানায় গিয়েছিলাম কিন্তু পুলিশের কোনো সহায়তা পাচ্ছি না।

অভিযুক্তরা হলো- বিজয়নগরের সাতগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার মিয়া (৩৮), আব্দুল্লাহ পুরের পরিমল কর্মকার (৩৫), মোহাম্মদ আলী (৪৫), মাহবুবুর রহমান (৩৫) ও একই গ্রামের লিটন কর্মকার (৩০)।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

গত ৩ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটার পর থানায় মামলা না নেয়ায় ৯ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলে তা এজাহারগণ্যে রেকর্ড এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিজয়নগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

কিন্তু বিজয়নগর পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলছেন, ‘আদালতে অবগতি প্রতিবেদন পাঠাতে সময় লাগবে এক মাসেরও বেশি।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেতে একমাস সময় লাগবে। আর সেই মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া কোনো কিছুই বুঝা সম্ভব না। তাই আদালতে প্রতিবেদন পাঠাতে এক মাসের বেশি সময় লাগবে।’

‘কিন্তু আদালতের ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশের কি হবে?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে মামলা নিতে আদালত নির্দেশ দিলেও ১০ দিন পার হলেও এখনো তা হয়নি।

আসামিরা রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করছে জানিয়ে ১৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই যুবক।

আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর বিল্লাল তার চাষ্ষা গ্রামে মৎস্য খামার পাহাড়া দিচ্ছিলেন। তখন সময় রাত ১১টা থেকে ১২টা। তখন অভিযুক্ত পাঁচব্যক্তি সেখানে জুয়া খেলতে যায়। এতে ওই যুবক তাদের বাধা দিলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ভুক্তভোগীকে বেয়াই সম্বোধন করে জুস খেতে দেয়। সেই জুস খাওয়ার পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

এরপর একের পর এক মিলে চলতে থাকে বলাৎকার। কিছু সময় পর মৎস্য খামারের মালিক সামিরুল ইসলাম এসে এই ঘটনা দেখে ফেলেন।

এ অবস্থায় সামিরুল তাদের এই কাজে বাধা দিলে অভিযুক্ত পরিমল হাতের লোহার টর্চ লাইট দিয়ে সামিরুলকে আঘাত করে পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর ঘটনা কাউকে না বলতে হুমকি দিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আসামিরা রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তার মামলা নিচ্ছে না বরং হয়রানি করছে। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন। ফোন করলে আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন।

‘ওইদিন বললো আমি যেন ঘটনার সময়কার আমার পোষাক নিয়ে ফাঁড়িতে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে ৩ ঘণ্টা বাহিরে দাঁড়িয়ে থেকেও দেখা করতে পারিনি। ফোন করে বললাম জামা-কাপড় এনেছি। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বললো সেই জামা ধুয়ে যেন পানি খাই।

এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তের দায়িত্বে আছেন ইসলামপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ। আদালতের নির্দেশ আছে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে।

তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানান ওসি।

শর্টলিংকঃ