জুমা ও তারাবির নামাজ নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক: মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধ কার্যক্রমের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র রমজান মাসে জুমা ও তারাবি নামাজের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দিক নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ থেকে ১৩ দফা নির্দেশনায় সম্বলিত প্রজ্ঞাপনের এ কথা বলা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৪ এপ্রিল (বুধবার) ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবি নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।

প্রজ্ঞাপন জারির পর পরই দুপুরের দিকে জরুরি বৈঠকে বসেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে তারাবি নামাজ আদায়ে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব রক্ষাসহ কিছু নির্দেশনা দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল থেকে চলমান থাকা বিধিনিষেধেও এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল এক নির্দেশনায় রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন না করার বিষয়ে বলা হয়।

এছাড়া শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ না করার বিষয় যুক্ত করে একটি অফিস আদেশ জারি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ওই আদেশে সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদের ওযুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার কথা বলা হয়। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের আগে জারি করা হবে। আরেকটি সূত্র বলছে, সোমবার (১২ এপ্রিল) নির্দেশনাগুলো জারি করা হবে। এসব নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে এবার মসজিদ কমিটি, ইমাম, খতিবদের বেশি দায়িত্ব দেয়া হবে। এছড়াও মুসল্লিদের জন্য আলাদা আলাদা নির্দেশনা দেয়া হবে।

এর আগে গত বছর করোনার কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জুমা ও তারাবির নামাজ আদায়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এবারও গত বছরের মতো স্বাস্থ্যবিধি, তিনফিট দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায়, ফরজ বাদে অন্যান্য নামাজ বাসায় আদায় করা, মসজিদে প্রবেশপথে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী রাখা, জায়নামাজ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্দেশনায় থাকবে।

গত ৫ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া ১০ নির্দেশনা

১. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু ও সুন্নাত নামাজ আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৩. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, মুসল্লিদের নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

৫. শিশু, বয়বৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে জামাতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে হবে।

৬. সংক্রমণ রোধে নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওযুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৮. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

৯. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব ও ইমামরা দোয়া করবেন।

১০. মসিজদের খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ