জীবন-জীবিকার স্বার্থেই করোনায় সাবধানতা জরুরি

রাজশাহীতে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে সাবধানতা দারুণভাবে কমে গেছে! আগের মতই মানুষ রাস্তা-ঘাট, যানবাহন, বাজার, দোকান পাটে ভিড় জমাচ্ছে। মাস্ক পরা ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখারও বালাই নেই। ঈদের বাজারে পশুহাটে গিজগিজ করছে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই। এতে করে যে বিপদ বাড়ছে সেটা মনে হয় ভুলে গেছে সবাই!

এ পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে মহানগরীতেই দুই হাজার ১৩৮ জন আক্রান্ত। এমন মহল্লা কমই আছে যেখানে করোনা রোগী নেই। কিন্তু রাস্তায় মানুষের অবাধ চলাচলে করোনার আলামত বোঝা মুস্কিল। অনেকটা বেপরোয়া চলাচল চোখে পড়ে সর্বত্র।

করোনা রোগীর সংখ্যা বিচারে রাজশাহী জেলা রেড জোনে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে কারও নজরদারি নেই। ব্যক্তিগত সাবধানতাও যেন উধাও হয়ে গেছে। এর ফল যে মারাত্মক হতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ঈদের পরে দেশে করোনা আক্রান্তের হার আগের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়া থেকেই পরিস্থিতি অনুমান করা যায়। এবার এখনই যে অবস্থা তাতে ঈদের সময় পরিস্থিতি কোথায় যাবে বলার অপেক্ষা রাখে না। ঈদের সময় মানুষের চলাচল বেড়ে যাবে নিশ্চিত। তার ওপর কোরবানির পশু কেনা ও পরবর্তী কর্মকাণ্ডে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আশা করা কঠিনই। এর ফল পাওয়া যেতে পারে ঈদের পর।

জীবিকার প্রশ্ন ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে করোনা নিয়ে এই যে অবহেলা-অসাবধানতা তার পরিণতি কেন আমরা ভুলে যাই? গত সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় যে ৫৯ জন শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে ৫৮ জনই রাজশাহীর। রাজশাহীতে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও উপেক্ষার মত নয়। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ২২ জনের মৃত্যু হলেও বিভিন্ন উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। করোনা বা উপসর্গে আক্রান্ত হলে যে বিপদজনক পরিস্থিতির মুখোমুখী হতে হয় তা মনে রেখেই সবার সাবধানতা বাড়ানো জরুরি। অসাবধানতার অর্থ নিজের ও অন্যদের বিপদ ডেকে আনা। জীবন ও জীবিকার স্বার্থেই সাবধানতা নিশ্চিত করা দরকার।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ