- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

জীবন ও জীবিকা, বড় কোনটা?

জীবনের ঊর্ধ্বে কিছুই নেই। অবশ্যই জীবন বড়। তবে সবার ক্ষেত্রে বিষয়টা এক নয়। দিন আনে দিন খায় মানুষের জীবিকার ওপর জীবনের নির্ভরশীলতা অন্যদের মত নয়। যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক বা স্বনিয়োজিত কাজে নিয়োজিত তাদেরও জীবিকা বন্ধ হলে জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার যে লকডাউন ঘোষণা করেছে তার প্রতিক্রিয়ায় এ প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে।

দেশে একদিনে করোনায় আক্রান্ত সাত হাজারের বেশি, মৃত্যু ৬৫ এর বেশি। এমন অবস্থায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই। তাই সরকার সারাদেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে। তার আগেই জারী করা হয়েছিল ১৮ দফা নির্দেশনা। বাস্তবে এসব নির্দেশনা মেনে চলার ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নিদের্শনাতেও অনেক কিছুই অস্পষ্ট। লকডাউনে সব কিছু বন্ধ না করে কিছু খোলা কিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে একটা এলোমেলো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আমাদের মত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের বিপুল জনসংখ্যার দেশে সব কিছু বন্ধ করাও কঠিন। এ জন্য যে সহায়তা বা বরাদ্দ দরকার তার অনুপস্থিতিতে দিন আনে দিন খায় মানুষ ঘরে বসে থাকতে পারে না। জীবিকা বন্ধ হলে তাদের জীবন বাঁচানোই যে কঠিন হয়ে পড়ে সেটা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যেই এ ধরনের শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা লকডাউনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।

গত বছর লকডাউনে এ ধরনের ব্যক্তির জন্যও সহায়তা দেয়া হয়েছিল। যদিও তার অনেকটাই পিঁপড়ায় খেয়েছে। এবার তেমন কিছুই করা হয়নি। তাই রমজানের আগে জীবিকা বন্ধ হওয়া মানুষের কঠিন অবস্থা অস্বীকার করা যাবে না। প্রান্তিক মানুষের জন্য অবশ্যই বিশেষ ব্যবস্থা করা যৌক্তিক। তাছাড়া লকডাউনে সফলতা আশা করা যায় না। এদের কাছে করোনা থেকে বাঁচার চেয়ে পেটের ক্ষুধা দূর করার গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়।

তাই করোনা মোকাবিলায় জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা জরুরি। এদেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে জীবন ও জীবিকার একটার চেয়ে অন্যটা ছোট করে দেখা সম্ভব কি-না ভেবে দেখা দরকার।

 

সোনালী/এমই