- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

জিরো টলারেন্সের পরও মাদক ভয়াবহ কেন?

মাদকের পক্ষে কেউ নেই, তারপরও সর্বত্র কেন মাদকের ছড়াছড়ি? গতকালের সোনালী সংবাদে শীর্ষ খবর ‘লাশের পেটে দেড় হাজার ইয়াবা’। আরেক খবরের শিরোনাম, ‘হেরোইনসহ গোদাগাড়ীর কৃষকলীগ নেতা গ্রেপ্তার’।

একই দিন সহযোগী একটি দৈনিকে রাজশাহীতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সভায় মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। এমন আহবান অবশ্য ক্ষমতাসীন মহল, রাজনীতিক সুশীল- পেশাজীবী প্রতিনিধিদের মুখে অহরহ শোনা যায়। এতে মাদক বিস্তারে কি প্রভাব পড়ে সেটা কেউ বলতে পারে না।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। সীমান্ত পথে মাদক আসার ঘটনা বলার অপেক্ষা রাখে না। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে দেড় হাজার ইয়াবা নিয়ে পাবনা এসে ধরা পড়েছে এক মাদক বিক্রেতা। পেটে করে আনা মাদকের কারণেই গ্রেপ্তার হবার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আর সীমান্ত উপজেলা গোদাগাড়ীর কৃষকলীগ নেতা সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল বাজারের জনৈকা নারীসহ নগরীর শিরোইল এলাকায় ধরা পড়েছেন হেরোইন নিয়ে। মাদক কেনাবেচার নেটওয়ার্ক যে দেশজুড়ে কতোটা বিস্তৃত তা নিয়ে নতুন করে কিছু কি বলার অপেক্ষা রাখে ?

মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান বাস্তবে কাজে আসে না সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, রাজনৈতিক-সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃত্বে যদি প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে ওঠে তবে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে সময় লাগে না। বাস্তবে এমন উদ্যোগের যে অভাব রয়েছে সেটা বোঝা যায় জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও মাদকের ভয়াবহতা থেকে। তাই জাতীয় পর্যায় থেকেই কার্যকর মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করা জরুরি। নইলে মুখে যাই বলা হোক, বাস্তবে মাদকের রাজত্বেই বসবাস করতে হবে।

সোনালী/এমই