জিআই সনদ প্রাপ্তি রাজশাহীর রেশম শিল্পকে বিকশিত করুক

দীর্ঘ ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর রাজশাহী রেশম কারখানা ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। ঠিক এ সময়ে রাজশাহী সিল্কের জিআই সনদ প্রাপ্তির খবর এই শিল্পের বিকাশে সংশ্লিষ্টদের আশাবাদী করে তুলেছে।
এক সময়ের বিশ্বখ্যাত রাজশাহীর রেশম এখন আর নেই। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত রাজশাহী রেশম কারখানা বন্ধ হয়ে যাবার ফলে বেসরকারি খাতের কারখানাগুলো একে একে বন্ধ হতে থাকে। এক সময় যেখানে ৭২-৭৩টি বেসরকারি রেশম কারখানা চালু ছিল এখন সেখানে মাত্র ১০-১২টি টিকে আছে। বিদেশি মানহীন সুতায় তৈরি কাপড় রাজশাহী রেশমের ঐতিহ্য ও বাজার ধরে রাখতে পারেনি।

১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক গ্যাট চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবাধে রেশম সুতা আসতে থাকে। কর প্রত্যাহার করায় বিদেশি সুতা মানহীন হলেও দামে সস্তার কারণে অতি সহজেই বাজার দখল করে নেয়। ফলে ১ বছরের মধ্যে রাজশাহী রেশম কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় সরকার বেশিরভাগ শ্রমিক-কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে বিদায় করে। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০২ সালে কারখানাটি বন্ধই করে দেয়। এ ভাবেই ১৮৮৯ সালে যাত্রা শুরু করা রাজশাহীর রেশম শিল্প স্বাধীন বাংলাদেশে মুখ থুবড়ে পড়ে।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার প্রচেষ্টায় সরকারি রেশম কারখানাটি জীবন ফিরে পেতে শুরু করে। রাজশাহী রেশম কারখানার ৪২টি পুরানো মেশিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯টি চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখানে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় গুনে-মানে উন্নত হলেও দামের কারণে বাজার পাচ্ছে না।

বিদেশি সুতা মানহীন হলেও দামের কারণে এ দিয়ে তৈরি সস্তা কাপড় বাজার দখল করে আছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর রেশমের পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

প্রথমত, রেশম কারখানাটির আধুনিকায়নে বিএমআরআই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া দেশি সুতা উৎপাদনে শুরু থেকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আগের মত রেশম চাষের প্রচলন, তুঁত গাছ, পলুপোকা, সুতা ও কাপড় তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে রাজশাহীর রেশম আবারও নিজ পায়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে, সন্দেহ নেই। এর পাশাপাশি বিদেশি সুতা আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কর আরোপ করাও দরকার।

আগামী ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী সিল্কের যে জিআই সনদ পেতে যাচ্ছে তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রেশম শিল্প নিঃসন্দেহে বিকশিত হবে। রাজশাহী রেশমের পুরানো ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসবে জোর দিয়ে বলা যায়।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ