‘জায়েদকে ৫০ হাজার টাকায়ও কেউ নিতে চায় না’

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে একজন উপসচিবকে প্রশাসকের দায়িত্বে বসিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেয়নি এফডিসি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনগুলো। পাশাপাশি যে অভিযোগের জেরে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার আধ্যাদেশ জারি করেছে সে অভিযোগও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন গণমাধ্যমকে জানান, যে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নতুন কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে সে অভিযোগ সত্যি নয়। জানি না বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসছি। পরে সিদ্ধান্ত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত ধোপে টিকবে না বলেই জানালেন বদিউল আলম খোকন। তিনি জানান, ‘মিশা-জায়েদকে বয়কট করেছি আমরা ১৮ সংগঠন। প্রযোজক সমিতির কমিটি না থাকলেও বাকী ১৭ সংগঠন আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। বরং জায়েদ খান বিষয়টি বেশ নোংরা করে ফেললো। মিশা-জায়েদ এবার আজীবনের জন্য বয়কট হবে।’

‘জায়েদ সিনেমার ওইরকম কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন। তার পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার। এই পারিশ্রমিকেও তাকে কেউ নিতে চায় না। তাই সে নিজের টাকায় সিনেমা নির্মাণ করেন। তার জন্য সিনেমার এতোবড় ক্ষতি হতে পারে না। তার যে ক্ষমতা আছে সেটা সে এখন জাহির করছে, করুক। এই ক্ষমতা দিয়ে সিনেমা করা যাবে না। সিনেমা করতে হলে সিনেমার মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে। এটা ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা না।’ যোগ করে বলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এ নেতা।

এদিকে পরিচালক ও পরিবেশ সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ে আপীলের কথা জানালেন। খসরু বলেন, ‘কমিটি বাতিলের বিষয়টি আমরা সবে জেনেছি। আমরা আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আপিল করব।’

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির কমিটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়ে। তাতে আরো বলা ২০১৯-২০২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হিসেবে খোরশেদ আলম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামসুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সংঘবিধি ও সংঘস্মারকের ৫(৫) ধারা লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে আদেশে। সমিতির কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ১০ ধারা মোতাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার নূরুল হককে সংগঠনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ