ছাত্রলীগের ‘নিষ্ক্রিয়’ তকমাধারী কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ

জয়-লেখক ও শোভন-রাব্বানী। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদের দুই বছর শেষ হচ্ছে আজ।

বর্তমান কমিটির সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সময়কালেও সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়েনি ছাত্রলীগের।

সাংগঠনিক কমিটি দেওয়া, দলীয় শৃঙ্খলার ‘চেইন অব কমান্ড’ রীতি বজায় রাখা, সাধারণ সভার আয়োজন, পদপ্রাপ্তদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া—এসবের কোনোটিই হয়নি এখনো পর্যন্ত।

এর পাশাপাশি বিতর্কিত ৩২ জনকে বাদ দিলেও সাত মাসেও শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেননি বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এমন পরিস্থিতিতে সম্মেলনের দাবি তুলছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বর্তমান কমিটির সাহিত্য সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব গ্রহণের পর একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে। পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা নিজেদের প্রমাণের সুযোগ এখনো পাননি।

‘এর পরও করোনা পরিস্থিতিতে তাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী ছাত্রলীগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ভার তুলে দিয়ে তাদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিয়েছেন, সেহেতু তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন কমিটি ভেঙে দেবেন কি না’ বলেন তিনি।

২০১৮ সালের এই দিনে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পদ হারান তারা।

ওই দিনই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ১ নম্বর সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। পরে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি তাদের পদে পূর্ণ দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, করোনাকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে কাজের মাধ্যমে সাড়া ফেললেও এসব কাজের অধিকাংশই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা, সাধারণ জনগণের সেবা করার মানসিকতা এবং দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

পুরাতনদের দিয়ে চলছে ১০৬টি কমিটি :

এদিকে, ছাত্রলীগের ১১১টি সাংগাঠনিক জেলার মধ্যে ৫টি ছাড়া অন্য ১০৬টিতে কার্যক্রম চলছে পুরাতন কমিটি দিয়ে। শোভন-রাব্বানী দায়িত্বে থাকাকালে এসব সাংগঠনিক জেলার কার্যক্রম গতিশীল করতে ব্যর্থ হলেও সফল হয়নি বর্তমান কমিটিও।

দায়িত্ব গ্রহণের ১০ মাস পার হলেও তিনটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি ছাড়া কোনো কমিটি দিতে পারেনি তারা। এছাড়া সাংগঠনিক কাজে কোনো ধরনের গতিশীলতা আনতে পারছে না।

পূর্ণাঙ্গ হয়নি কেন্দ্রীয় কমিটি :

ছাত্রলীগে পদপ্রাপ্ত বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার পর নতুন করে কাউকে পদায়ন করতে পারেনি ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি বলছেন, ‘আমরা বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার পর করোনা মহামারি শুরু হয়, যার কারণে শূন্য স্থান পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

দায়িত্ব পাননি কেউ :

দায়িত্ব গ্রহণের দীর্ঘ ১০ মাস পরে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় ছাত্রলীগের। কমিটি দেওয়ার পর বছর পার হয়ে গেলেও সম্পাদকদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারেননি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সম্মেলনের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পেয়েছি। আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক, যার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়, তিনিই একমাত্র বলতে পারবেন কবে নাগাদ সম্মেলন হবে। তিনি যখন সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলবেন, তখন আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নেব।’

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ