চোখের সামনে তলিয়ে গেল ছোট ভাই

  • 41
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে নেয়া হচ্ছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সোমবার সকাল সাড়ের ৯টায় দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। এরপর বেলা বাড়ছিল আর একের পর এক লাশ উদ্ধার করছিলেন ডুবুরিরা।

উদ্ধার লাশগুলো ট্রলারে করে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে মর্গের সামনে বাড়ছিল স্বজন হারানোদেরে ভিড়। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে মর্গ।

সরেজমিন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে দেখা যায়, প্রিয়মুখ আর স্বজন হারানোর বেদনায় অনেকে চিৎকার করে কাঁদছেন। একটা করে লাশ আসছে আর সবাই সেই লাশের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন লাশটা তার প্রিয়জনের কি না দেখার জন্য।

উদ্ধার লাশগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় মর্গের সামনে। সেখান থেকে আত্মীয়-স্বজনরা যে লাশগুলো শনাক্ত করতে পারছেন তা তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে পুলিশ ও মর্গ কর্তৃপক্ষ। কথা হয় লঞ্চ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী মো. সাইফুলের (২০) সঙ্গে।

তিনি জানান, তার ছোট ভাই সায়েমসহ (১৫) মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসছিলেন। লঞ্চটি দুর্ঘটনার শিকার হলে, তিনি পানিতে ভেসে উঠতে পারলেও তার ছোট ভাই সায়েম তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার ভাইয়ের লাশটি পাওয়া যায়নি। হাউমাউ করে ছোট ভাইয়ের জন্য কাঁদতেই থাকেন সাইফুল।

কিছু দূরে দেখা যায়, মর্গের এক পাশে আফরোজা আক্তার নামে এক নারী অসহায়ের মতো কাঁদছেন। কাছে গিয়ে  জিজ্ঞেস করতেই তার কান্না আরো বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার ভাই গেল কই?’

আফরোজা জানান, তার ভাইয়ের নাম গোলাপ হোসেন ভূইয়া (৪৫)। ঢাকা মেডিকেলে এক রোগীকে রক্ত দেওয়ার জন্য ঢাকা আসছিলেন। লঞ্চে ওঠার আগে তার সঙ্গে কথা হয়। এর একটু পরেই খবর পান তার ভাই লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে সেখান থেকে জানতে পারেন লাশ মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসে এত লাশের ভিড়ে তার ভাইকে খুঁজার চেষ্টা করছেন  আত্মীয়-স্বজনরা। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

মর্গের গেটের সামনে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের একজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আ. রহমান, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম এবং ছেলে সিফাত। শনাক্ত করার পর হাসপাতাল থেকে লাশ বুঝে নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কান্না কিছুতেই বাগ মানছিল না তাদের।

আরেক জায়গায় দেখা হয় দোলা রানীর সঙ্গে। হাসপাতাল মর্গে বাবার লাশের জন্য অপেক্ষা আছেন তিনি।

তিনি জানান, তারা বাবা সত্যরঞ্চন সকালে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ব্যবসার কাজে তার বাবা প্রতিদিন মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন। সোমবার সকালেও তার বন্ধুর সঙ্গে ঢাকায় আসছিলেন। বন্ধু বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি বাবার।

এ ছাড়া আরো অনেকেই অপেক্ষা করছে স্বজনের লাশের।

তাদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চায় না।

এ দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরির্শন করে ফায়ার   সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেইন জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন   করা হবে। তদন্তের শেষে পুরো চিত্র জানা যাবে। আমরা আরো লাশের সন্ধান করছি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ