চিকিৎসাসেবার মান বেড়েছে ধামইরহাট হাসপাতালে

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্স। মাত্র ৩ মাস আগেই এই স্বাস’্য কমপেৱক্স চলতো মাত্র ৩ জন ডাক্তার দিয়ে। রোগীরা সেবা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেৰা করতো। এক সাথে ১৪ জন চিকিৎসক যোগদান করায় কষ্ট লাঘব হয়েছে ধামইরহাট উপজেলার ২ লৰাধিক সাধারণ মানুষের।
সার্বৰনিক ডাক্তার থাকায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে প্রায় ১০ গুন। রোগীরা পাচ্ছে পর্যাপ্ত সরকারী ঔষুধ, কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতেও হচ্ছে নরমাল ডেলিভারী। সবকিছু ভালভাবে চলছে উপজেলা স্বাস’্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস এর দিক নির্দেশনায়। ৩৯ বিসিএস থেকে স্বাস’্য ক্যাডারে ধামইরহাট উপজেলায় মেডিসিন অভিজ্ঞ ডা. জিন্নাত ফার্বকী, রেসপিরেটরি মেডিসিনে অভিজ্ঞ ডা. ফয়সাল, শিশুরোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ ডা. সামিউল আলম, সার্জারিতে বিশেষ প্রশিৰণ প্রাপ্ত আঞ্জুমান আরা ও আলট্রাসনোগ্রাফিতে অভিজ্ঞ ডা. মলিৱকা চংদারসহ ১৪ জন ডাক্তার যোগদান করেন গত বছরের ডিসেম্বরে। এর পর থেকে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ডাক্তার উপসি’ত থাকায় গ্রাম পর্যায়ে ওইসব কমিউনিটি ক্লিনিকে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সে দিনে ৩০/৪০ জন রোগীর পরিবর্তে বর্তমান ৩ শতাধিক রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু ইসা মো. আরাফাত ইমাম বলেন, আগে ডাক্তার সংকট থাকায় রোগীর কল্যাণে তাদের রেফার্ড করা হলেও বর্তমানে একাধিক চিকিৎসক থাকায় সেইসব রোগীদের রেফার্ড না করে হাসপাতালের চিকিৎসা দিয়ে তাদের সুস’্যতা দান করা হচ্ছে। নতুন এম্বুলেন্স থাকায় গুর্বত্বর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্র্বত বাহিরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস’্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা চিকিৎসকগণ সেবার মন-মানসিকতা নিয়ে এ পেশায় যোগদান করেছি। ধামইরহাট উপজেলার সাধারণ মানুষের শতভাগ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডাক্তারদের নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় ও তাদের দৰতা বৃদ্ধিতে ‘প্রভাতি শিৰায়তনিক প্রশিৰণ’ নামক প্রশিৰণ বাংলাদেশে প্রাথমিকভাবে ধামইরহাটে চালু করেছি। এতে ডাক্তারগণের দৰতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কমউিনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করে নরমাল ডেলিভারীর বিষয়ে বিশেষ তাগাদা প্রদান করেছি। আর এতকিছুর একটাই উদ্দেশ্যে, যাতে করে সরকারের লৰ্য ও উদ্দ্যেশ্য বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষ যেন স্বাস’্য সেবা সঠিক ভাবে পায়।
এছাড়াও হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি, এনেসথেসিয়া, চৰু ও নাক-কান গলাসহ ১০টি জুনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে ১০টি পদই শুন্য রয়েছে, যেগুলো থাকলে চিকিৎসা সেবার মান আরও ভাল হতো, আবার হাসপাতালে ৫টি সুইপারের পদ থাকলেও ১ জন কর্মরত আছে।
উলেৱখ্য গত ২০ ফেব্র্বয়ারী ধামইরহাট ইউনিয়নের নেউটা কমিউনিটি ক্লিনিকে নেউটা গ্রামের মৃত রকিবুল ইসলামের মেয়ে গর্ভবতী রাজিয়া সুলতানা প্রসব ব্যথা নিয়ে আসলে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মুন্নুজান খাতুন, উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সের মিড ওয়াইফ নার্স মেহের নিগার গর্ভবতী ওই মায়ের নরমাল ডেলিভারীর প্রস’তি নিলে রাজিয়া সুলতানা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস’্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসের নির্দেশে হাসপাতালের শিশু রোগে বিশেষ প্রশিৰণ প্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ ডা. সামিউল ইসলাম ঘটনাস’লে ছুটে যান এবং মা ও শিশুর স্বাস’্য পরিৰা করেন।

শর্টলিংকঃ