চিকিৎসকদের জন্য এসেছে ভাইরাস প্রতিরোধী পোশাক, জানালেন বাদশা

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে রাজশাহীবাসীকে সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়েছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজশাহীতে সক্ষমতা অর্জন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চীন থেকে চিকিৎসকদের জন্য ভাইরাসপ্রতিরোধী পোশাক (পিপিই) আনা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিরক্ষামূলক এ পোশাক আরও আনা হবে।
করোনা নিয়ে গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফজলে হোসেন বাদশা। এতে তিনি লেখেন, রাজশাহীতে হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৩ জনকে রাখা হয়েছে। তাদের এখনও কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়নি। চিকিৎসার বিষয়ে আমরা এগিয়েছি। চিকিৎসকদের নিরাপদ পোশাক আসতে শুরু করেছে। এসব চীন থেকে এসেছে। এটা খুব জরুরি ছিল। এটা উপজেলা হাসপাতালেও খুব জরুরি ভিত্তিতে যাবে। রাজশাহীর হাসপাতালে চিকিৎসকরা কাজে লাগাবেন।
বাদশা লেখেন, রাজশাহী বিভাগে এখনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগি নেই। রোগ শনাক্তের কিট আছে ঢাকা আইইডিসিআরের গবেষণাগারে। তবে জরুরি ভিত্তিতে কিট জেলা হাসপাতালেও যাবে। স্ট্যাটাসে করোনাভাইরাসকে জাতীয় ও বিশ্ব সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বাদশা নাগরিকদের সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। আর প্রবাসীরা দেশে আসার কারণে পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের এই সভাপতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতরাতে তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগে এখনও কোন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগি শনাক্ত হয়নি। কারও মৃত্যুও হয়নি। সুতরাং খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। এখন সচেতনতার খুব দরকার। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনা মোকাবিলা সম্ভব। এখন প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।
বাদশা জানান, যদি কোনো করোনা রোগি শনাক্ত হয় তবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তার চিকিৎসা করা হবে। রামেক হাসপাতালে অনেক রোগি। সেখানে কোভিড-১৯ রোগি নেয়া যাবে না। এ জন্য রাজশাহীর আইডি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। রোগির সংখ্যা বেশি হলে শহর সংলগ্ন পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শুধু করোনা রোগিদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। অন্য রোগিদের তখন অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। এছাড়া রাজশাহী শহরের তিনটি স্টেডিয়ামকেও চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে সবাই সচেতন থাকলে এত কিছুর প্রয়োজন পড়বে না।
তারপরেও কেউ আক্রান্ত হয়েছেন এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হলে তিনি আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করার আহŸান জানান। তিনি বলেন, হটলাইনে ফোন করা হলে আইইডিসিআরের চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে নেবেন। পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।
তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদেরও নিরাপত্তা প্রয়োজন। সে জন্য ইতিমধ্যেই চীন থেকে প্রতিরক্ষামূলক পিপিই পোশাক আনা হয়েছে। রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত রোগী নেই বলে সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। তবে যদি আরও পোশাকের প্রয়োজন পড়ে তা আনা হবে। সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা মানবতার জন্য চিকিৎসকদেরও প্রস্তুত থাকার আহŸান জানিয়েছেন।

শর্টলিংকঃ