চাষির হাসি স্থায়ী হোক

সাধারণত চাষির ভাগ্য অনিশ্চিত। সার, বীজ, সেচ নিয়ে চিন্তা, আবহাওয়া কেমন থাকে, ফলন ভালো হয় কি-না, বাজারের অবস্থা, সবকিছুতেই অনিশ্চয়তা। তবে এবার ধান চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে অনেক দিন পর। বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রায় ৭০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাজারের অবস্থা ভালো। খড়েই উঠছে চাষের খরচ, ধানের দামেও রেকর্ড। তাই হাসির দেখা মিলেছে।

এবার আমন আবাদের সময় রাজশাহী অঞ্চলে ভালো বৃষ্টি হয়েছে। তাই সেচের খরচ কমেছে। এখন খড় বিক্রি করেই আবাদের খরচ প্রায় উঠে আসছে। ধান বিক্রির টাকা পুরোটাই লাভ। অনেকদিন এমন অবস্থা দেখা যায়নি।

বর্তমানে এক হাজার আঁটি খড় বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকায়। এক বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২২ মণ ধানের সাথে দেড় থেকে দুই হাজার আঁটি খড় পাওয়া যায়। খরচ কম হওয়ায় এবার জমির মালিকদের প্রতি বিঘা জমি আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। খড় বিক্রি করেই সে টাকা উঠে আসছে। বাজারে ধানের দাম মণ প্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা। এমন দাম গত কয়েক বছরে পাওয়া যায়নি। এমন লাভও পায়নি চাষি। এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে পকেটে আসছে কম পক্ষে ১৮ হাজার টাকা। গড়ে প্রতি বিঘায় লাভ প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তবে চাষিদের লাভ হলেও খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। গো-খাদ্যের জন্য অপরিহার্য খড়ের দাম গুণতে তাদের হিমশিম অবস্থা।

ধান চাষের এই অবস্থা স্থায়ী হবে জোর দিয়ে বলা যায় না। বাজারের ওপর চাষিদের নয়, নিয়ন্ত্রণ মধ্যস্বত্বভোগী, মিলমালিক ও ব্যবসায়ীদের। আর বাজার ব্যবস্থাপনাও যে মজবুত নয় সেটা না বললেও চলে। অনিয়ন্ত্রিত বাজারেই মার খায় চাষিরা। ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না। কৃষি উপকরণের নিশ্চয়তাও মেলে না। এমন অনিশ্চয়তার অবসান জরুরি। সবাই চায়, চাষির মুখের হাসি স্থায়ী হোক। তারাই এখন প্রধান ভরসা।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ