চালের দাম বাড়ছেই

শিরিন সুলতানা কেয়া: ধানের ভালো ফলন হয়েছে। পর্যাপ্ত চালের সরবরাহও আছে। তারপরও রাজশাহীর বাজারে দফায় দফায় চালের দাম বাড়ছে। বাজারে সব ধরনের চালের বেড়েছে। সংশিৱষ্টরা জানান, অসাধু চক্রের কব্জায় বাড়ছে চালের দাম। গত এক মাস ধরেই চালের বাজার অস্বিতিশীল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
রাজশাহীর চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী বাজারে কোন কোন চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। কোন কোন চালের দাম ২ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে খুচরা বাজারের। স্বর্ণা মোটা চালের দাম বস্তাপ্রতি হয়েছে দেড় হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও এই চালের দাম ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। দাম বেড়েছে চিকন স্বর্ণা চালেরও। বস্তাপ্রতি এর দাম দাম ২০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা।
দাম বেড়েছে বাসমতি ও মিনিকেট চালের। বাসমতি চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৫০০ টাকা। কিছুদিন আগেও দাম ছিলো ২ হাজার ৩০০ টাকা, কিন’ এখন দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। বাসমতির মতো দাম বেড়েছে মিনিকেটেরও। বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা করে দাম বেড়েছে এই চালের। একমাস আগেও দাম ছিলো ২ হাজার ১০০ টাকা কিন’ এখন দাম হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। কম নেই আতব চালের দামও। আতব চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৭০০ টাকা। আগে দাম ৩ হাজার ৯০০ টাকা থাকলেও দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০০ টাকায়।
মধ্যবিত্তদের পছন্দের আটাশ চালের দামও বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আগে আটাশের বস্তাপ্রতি দাম ছিলো ২ হাজার ৯০০ টাকা। কিন’ এখন ৩০০ টাকা দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। পাইকারি বাজারের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। চাল বিক্রেতাদের বেশি দাম দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে। ফলে তারা বেশি দামে খুচরা বিক্রি করছেন।
খুচরা বাজারে মিনিকেট চাল ৪৮ টাকা কেজি থাকলেও এখন দাম বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। জিরাশাল চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন দাম হয়েছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত। বাজারে অন্যান্য চালেরও এখন দাম বেশি। বাসমতি, পায়জাম, নাজিরশালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে।
এক সপ্তাহ আগেও বাসমতি, পায়জাম, নাজিরশালের দাম ৫৫ টাকা থাকলেও এখন দাম হয়েছে ৬০ টাকা করে। তবে দাম সি’তিশীল আছে বালাম, রনজিত ও কাটারিভোগের। গত এক মাস ধরেই এগুলো চালের দামের কোন পরিবর্তন হয়নি। বালাম আগের মতোই ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তেমনি রনজিত ৩৮ টাকা ও কাটারিভোগ সিদ্ধ চাল ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
নগরীর মেসার্স মক্কা রাইস এজেন্সির মালিক আবদুল কাদের ভুলোন বলেন, চাল, ডাল সবই অটো মিলারদের হাতে। তারাই এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। এবার কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পায়নি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে অটো মিলাররা। তারা কম দামে ধান কিনেছে। এখন তাদের হাতে থাকা ধান দিয়ে বেশি দামে চাল বাজারে ছাড়ছে। আমাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। মূলত অটো মিলারদের সিন্ডিকেটের কারণেই এখন চালের দাম বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে দাম বেশি থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে রাজশাহীর নিম্ন আয়ের মানুষকে। বাজারে চাল কিনতে গিয়ে রায়হান হোসেন বলেন, চাল ছাড়া একদিনও তো চলা সম্ভব নয়। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ।্‌ আমাদের জন্য বাড়তি দুই টাকা দেয়াও কষ্টকর। চালারে বাজারে সি’তিশীলতা রাখতে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

শর্টলিংকঃ