চালের দাম কমবে কি?

  • 1
    Share

সাধারণত রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এবার আগে থেকেই বাজারে পণ্যমূল্য বাড়তে শুরু করেছে। চালের দামও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সরকার আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিলেও তার প্রভাব নেই বাজারে। চাল আমদানিতে সমস্যার কারণেই এমন অবস্থা বলে পত্রিকার খবরে জানা গেছে।

গত বছর বোরো ও আমন মৌসুমে ধানের ফলন কম হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছরের আগস্টে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নানা গরিমসির কারণে কাক্সিক্ষত পরিমাণ চাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ অভিযানও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে চালের সরকারি মজুদ তলানিতে এসে ঠেকে। বাজারে চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠে।

বর্তমানে সরকারি গুদামে প্রায় ৪ লাখ ৭৭ হাজার টন চাল মজুদ আছে। অথচ গত বছর এ সময়ে মজুদ ছিল ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৫ টন। গত বছরের চেয়ে ১২ লাখ টন মজুদ কম থাকায় সরকার সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানি বাড়াতে শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। কিন্তু বিশ্ব বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত মূল্যে চাল আমদানির গতি বাড়েনি। ভারত থেকে চাল আমদানিতে সীমান্তের ওপারে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। ফলে সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার মুখে।

সরকারিভাবে ১১ লাখ টনের বেশি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত এসেছে মাত্র এক লাখ ৯৪ হাজার টন চাল আর বেসরকারিভাবে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টনের মধ্যে এসেছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন। ফলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় রমজানে চালের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা অনুমান করাও কঠিন। তার ওপর লক ডাউনের ফলে বাজারে সব পণ্যের দামই বাড়বে বলেই আশঙ্কা জেগেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারলে চালের দাম কমার সম্ভাবনা কম। পাইকারি ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের মজুদকৃত চাল বাজারে আনা সম্ভব হলে অবস্থার উন্নতি কিছুটা হলেও আশা করা যায়। পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত চাল আমদানি বাড়াতে হবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ