চারঘাটে ত্রাণ চাওয়ায় আ.লীগ নেতাকর্মীর হামলায় আহত ৪

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ত্রাণ চাওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে আইনাল হক (৪০) ও মতিরুল ইসলাম (২৮), আজাহার আলীর ছেলে আবদুল মোতালেব (৩৩) এবং জালাল উদ্দিনের ছেলে জিল্লুর রহমান (৩৫)। এদের মধ্যে আইনাল রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার পর পুলিশ এক স্কুলছাত্রকে আটক করে থানা হাজতে রেখেছে। তার নাম মনিরুল ইসলাম (১৭)। সে বরকতপুর গ্রামের মোতাহার আলীর ছেলে। স্থানীয় একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে সে। যারা ত্রাণ পাইনি বলে কথা তুলেছিল তাদের পক্ষে থাকায় এই স্কুলছাত্রকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের কথামতো পুলিশ এই স্কুলছাত্রকে আটক করেছে। শনিবার দুপুরে তাকে আটকের পর আত্মীয়-স্বজন থানায় গিয়েছিলেন। তখন চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমিত কুমার কুণ্ডু তাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ বললেই তাকে ছাড়া হবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বরকতপুর গ্রামের কামারপাড়া মোড়ে কিছু মানুষ বসেছিলেন। তখন কথা ওঠে, এলাকায় যারা স্বচ্ছল তারা ত্রাণ পাচ্ছেন। স্থানীয় নেতারা তাদের নিজেদের লোককেই শুধু সরকারি ত্রাণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তখন ওই মোড়ে ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ। তিনি তার কর্মীদের ডেকে যারা এসব কথা বলছিলেন তাদের ওপর আক্রমণ করেন। এতে চারজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন উল্টো আরিফই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিরুল ইসলাম বলেন, যারা পানেওয়ালা (অসহায় হিসেবে ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য) তারেক (তাদেরকে) দিছে না। যারা বড়লোক (ধনী) তারেক দিছে। যারা স্বচ্ছল, যারা নেতার নিজস্ব লোক তারেক দিছে। এই কথা বুলাটাই আমার অপরাধ। এরপরই লোকজন জড়ো করে পিটিয়ে সাট করে দিল। ক্ষমতার জোর আছে, স্কুলে পড়া ছেলেটাক পুলিশ দিয়ে ধরালো। থানা পুলিশ এখন আরিফের কথামতোই চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চারঘাট থানার ওসি সমিত কুমার কুণ্ডু বলেন, ঘটনাটি তিনি জানেন। অভিযোগ থাকায় মনিরুলকে আটক করা হয়েছে। বাদী আছে, তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।

সোনালী সংবাদ/আর.আর

শর্টলিংকঃ