চাঁপাইয়ে মহাষ্টমীতে করোনা মুক্তির জন্য প্রার্থনা

  • 7
    Shares

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: এবার ঘটা করেই চলছে শারদীয় দূর্গোৎসব। দেবী এবার স্বামীগৃহ কৈলাশ থেকে এসেছেন গজে চড়ে। পাঁচদিন বাবার বাড়ি থেকে বসুন্ধরায় থেকে দোলায় চড়ে ফিরে যাবেন স্বামীগৃহে।

শনিবার ছিল মহাষ্টমী, শারদীয় দুর্গাপূজার আকর্ষণীয় এবং জাকজমকপূর্ণ দিন। করোনার কারণে এবার তেমন আয়োজন ছিল না। সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছিল চন্ডীপাঠ, ঢাকের বোল, মন্ত্র, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি, অঞ্জলি, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপণ্ড দীপ সব মিলিয়ে প্রতিটি মণ্ডপেই অন্যরকম পরিবেশ।

বিশ্ব শান্তি ও করোনা থেকে মুক্তি কামনায় উৎসবের দ্বিতীয় দিনে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন সবাই। সকাল থেকেই জেলা শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তরা অঞ্জলী দিতে আসে পূজা মণ্ডপগুলোতে। উৎসবের সঙ্গে মিল রেখে সবাই সাধ্যমতো পোশাক পড়ে আসেন প্রতিমার পায়ে অঞ্জলি দিতে।

পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনায় দেয়া হয় ভোগ আর নৈবর্ত্য। কাসার বাসনে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বাসহ ফলমূল দিয়ে সাজানো হয় মায়ের ভোগ। সকাল ৯ থেকে বেলা সাড়ে ১১টা মধ্যে দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা, এরপর শুরু হয় সন্ধিপূজা।

আয়োজকরা জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার মণ্ডপে উপস্থিতি যেমন কমেছে, তেমনি প্রাঙ্গণজুড়ে নেই উৎসবের আমেজ এবং আরতিতেও নেই আগের মতো ভীড়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৯ টার মধ্যে মণ্ডপ বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও সন্ধ্যার পর অনেক পূজামণ্ডপে শুনশান নীরবতা দেখা গেছে। জেলা শহরের কয়েকটি পূজো মন্ডপে বিকালের পর থেকে ভক্তদের দেখা যায়নি।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, সন্ধ্যার মধ্যেই আরতি সম্পন্ন করে দর্শনার্থীদের মন্দিরে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক ব্যবহার করে ভক্তদের অঞ্জলিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, বিজয়া দশমীতে এবার বিজয়ার শোভাযাত্রা হবে না। মন্দিরগুলো তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া মহামারি থেকে পরিত্রাণ পেতে মন্দিরে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

পুরোহিত ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, যেহেতু এবার মা দোলে চড়ে এসেছেন ফলে কিঞ্চিৎ পরিমাণে অশুভের আশঙ্কা রয়েছে। তবে মায়ের কাছে প্রার্থনা যুগে যুগে যেভাবে অশুভ শক্তির বিনাশ করেছে, এবারও সেভাবে অশুভ শক্তির বিনাশ করে সবাইকে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ দিও।

এছাড়া, এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘরিয়ায় পালন করছে রাজশাহী অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ২২টি প্রতিমা নিয়ে বাইশপুতুল দূর্গাপূজা।

বারঘরিয়া বাইশপুতুল সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের সম্পাদক শ্রী মৃণাল কান্তি পাল জানান, আনুমানিক ১৭০৫ সাল হতে এ পূজাটি বংশানুক্রমিক হয়ে আসছে। এ পূজাটি অনুষ্ঠিত হতো চৌডালা কেন্দ্রীক। এর ইতিহাস রয়েছে, একসময় বন্যা হয়েছিল, বন্যার সময় এলাকাটি প্লাবিত হওয়ায় মায়ের সেই কাঠামোটি ভাসতে ভাসতে বারঘরিয়া এলাকার নদীর ঘাটে চলে আসে।

কথিত রয়েছে, পূর্ব পুরুষদের স্বপ্নে দেখায় এখানে এ পূজাটি করতে হবে। আজ অবধি পূজাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২২ টি মূর্তিতে বিশাল আকৃতির এবং প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনের জন্য অজস্র দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে এ মন্দিরে। এমনকি ভক্তরা মানত করে থাকে। এছাড়া উৎসবকে ঘিরে গ্রামীণ মেলা বসেছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ