গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো রক্ষায় নজরদারি প্রয়োজন

দেশজুড়ে উন্নতমানের সড়ক-মহাসড়কের পাশে গ্রামাঞ্চলের সড়ক অবকাঠামোও গড়ে উঠছে দ্রুতই। এখন প্রায় সর্বত্রই পাকা সড়ক নজরে পড়ে। তবে গ্রামীণ সড়ক ভালো থাকে কম সময়ই। অতিরিক্ত মাল বোঝাই যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে পাকা সড়ক যেমন ভেঙে যায় তেমনি জনদুর্ভোগও চরমে ওঠে। গতকালের সোনালী সংবাদে রাজশাহীর পুঠিয়ায় অবৈধ ট্রাক্টরে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫টি ইটভাটা ও ডজন খানেক পুকুর খননের ফলে মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের চলাচল বেড়ে গেছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার ১২শ ট্রাক্টর-ট্রলি চলাচল করছে বিভিন্ন সড়কে। বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে মে-জুন মাস পর্যন্ত এই মাটিবোঝাই যানের চলাচল বৃদ্ধি পায়। মাত্রাতিরিক্ত ইট ও মাটি বহনের ফলে এর মধ্যেই বিভিন্ন সড়ক চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। নির্মাণ শেষ হতে না হতে পাকা সড়ক ভেঙে যাচ্ছে দ্রুত। এখানে ওখানে গর্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কের আশপাশের পরিবেশ ধূলায় দূষিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

পাকা সড়ক নির্মাণের সময় তার ধারণক্ষমতা ঠিক করে দেয়া হয়। সাধারণত ৫-৭ টন ধারণক্ষমতা বা পরিবহন করা যায়। কিন্তু ইট ভাটা মালিক বা পুকুর খননকারীরা কোনো নিয়ম-কানুন মানে না। তাদের দাপটের সামনে কারও প্রতিবাদ টেকে না। স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমন অবস্থা শুধু যে পুঠিয়ায় তা নয়। বিভিন্ন উপজেলায় সড়কের বেহাল দশার পেছনে একই কারণ। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা করা হলেও বেপরোয়া যানের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থার দেখা মেলে না। ফলে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশাই স্থায়ী হয়ে উঠেছে। জনদুর্ভোগও স্থায়ী হয়ে উঠেছে। পুলিশ-প্রশাসনের মত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সড়ক রক্ষা ও জনদুর্ভোগ মোচনে ভূমিকা পালনে দেখা যায় না।

এমন অবস্থার অবসানে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো রক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ