গ্রামগঞ্জের রাস্তার দিকেও নজর দিন

  • 4
    Shares

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদিঘি গ্রামের কৃষি মজুররা প্রতি বছরের মত এবারও ধান কাটতে গিয়েছিলেন নিয়ামতপুরে। মজুরি বাবদ পাওয়া ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নসিমনে চড়ে। গ্রামের ভাঙা রাস্তায় ধান বোঝাই নসিমন উল্টে পুকুরে পড়ে।

এতে করে ৯ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, আহত ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪ টার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর সোনালী সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়েছে।

১৫ জনের সেই ধান কাটা দলটি ২১ দিন কাজ করে প্রতিজন ১০ মন ১০ কেজি করে ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরেই শিবগঞ্জের ভাঙা সাঁকো এলাকায় ধান বোঝাই গাড়িটি উল্টে রাস্তার পাশে পুকুরে পড়লে বস্তা চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের মাতম উঠেছে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রামের সরু রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এক পাশ ভাঙা ছিল। সেখানে চলন্ত গাড়ির চাকা পড়লে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকারে পরিণত হন কৃষি শ্রমিকরা।

এমনিতেই কৃষি শ্রমিকদের মত প্রান্তিক মানুষজনের জীবনের ঠিক নেই। শ্রমিক হিসেবে তাদের নিবন্ধন নেই। মজুরির ঠিক নেই। যে নসিমন বা ভটভটি নামের গাড়িতে চড়ে তারা আসছিলেন সেটিরও বৈধতা নেই। আর গ্রামের যে রাস্তা তারও কি ঠিক ঠিকানা আছে? প্রত্যক্ষদর্শীরা রাস্তায় যেখানে দুর্ঘটনা তার একদিকে পুকুর, অন্যদিকে খাদের কথা জানিয়ে বলেছেন, ভাঙাচোরা রাস্তায় চলতে গিয়েই নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ১০ দিন আগেও একইভাবে আরেকটি ট্রলি উল্টে গিয়েছিল বলেও জানান তারা।

চলমান উন্নয়ন ধারায় বড় বড় শহর ও মহাসড়কের চেহারা পাল্টে গেলেও গ্রাম গঞ্জের রাস্তাঘাটের অবস্থা কেমন সেটা মাঝে মধ্যে প্রকাশ পায় দুর্ঘটনা ঘটলে। শিবগঞ্জের রাস্তার খবরও তেমনভাবেই জানা গেল। তবে এজন্য হতাহতের শিকার হতে হয়েছে কৃষি শ্রমিকদের। এ অবস্থায় গ্রাম গঞ্জের রাস্তার দিকেও নজর দেয়া যে জরুরি তার বেশি কি আর বলতে পারি আমরা!

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ