গোদাগাড়ীতে শেষের পথে ধান কাটা, কৃষকের মুখে হাসির

জামিল আহমেদ, গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে এখন। চলতি সপ্তাহে বজ্রপাত, শিলা ও বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষক একটানা ধান কাটতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে আকাশ রৌদ্রজ্জ্বল থাকায় কাটা ধান শুকানোর কাজও করা গেছে সহজে।

গোদাগাডী উপজেলায় ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। ২০ ভাগ কয়েকদিনে শেষ বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। গোদাগাড়ী কৃষি বিভাগ জানায়, ১৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এই সপ্তাহেই ধান কাটা শেষ হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে কৃষকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো চলছে সমান গতিতে। শ্রমিক সংকট না থাকায় ধানও কাটা চলছে দ্রুতগতিতে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুই দিনের বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে কৃষকদের মধ্যে ভীতি দেখা দেয়।

করোনা ভয় উপেক্ষা করে কষ্টের বোরো ধান ঘরে তুলতে কৃষক কিষাণী এখন মাঠেই অবস্থান করছেন। শত কষ্ট শেষে ভালোয় ভালো ধান ঘরে তুলতে পেরে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে কৃষক পরিবারে।

সোনালী ধান ঘরে তুলে কারও ছেলে মেয়ের বিয়ে, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, ঘরবাড়ি মেরামতসহ পরিবারের ব্যয় নির্বাহের সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

শনিবার সরেজমিনে উপজেলার মাঠে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ ধানই কাটা শেষ। কিষাণীরা ধান শুকাচ্ছেন। অনেকে শুকানো ধান গরুরগাড়ি, মহিষের গাড়িসহ ভ্যানগাড়ি, টাক্টরে করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। আরও সপ্তাহ সময় পেলে কৃষকরা ভালোয় ভালোয় ঘরে ধান তুলতে পারবেন। ধান ঘরে তুলতে পারায় কৃষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দুশ্চিন্তা কেটে গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দ্রুতগতিতে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ চলছে। এই সপ্তাহেই ধান কাটা শেষ হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ