গোদাগাড়ীতে জবরদখলে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

  • 67
    Shares


স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের দুটি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের দাবি, এলাকায় একটি মহল বিভিন্ন জায়গা জবরদখল করছে। এতে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। প্রতিকার পেতে বুধবার বিকালে তারা রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাকড়ি ইউনিয়নের মুসড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার সঙ্গে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং পাকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইসরাইল হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা তাবজুল মোল্লা, রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য ইসরাইল হোসেন বলেন, ঝিনা বিবিডাইং মোড়ে তার সার-কীটনাশকের দোকান ছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে আল-আমিন, খলিলুর, ডা. বাদা, আউয়ালসহ এলাকার কিছু ব্যক্তি তার দোকানটি দখল করে নিয়েছেন। সেদিন তালা ভেঙে তার দোকান থেকে মালামাল বের করে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। ইসরাইল জানান, তার দোকানঘরে এখন ক্যারাম বোর্ড খেলার ঘর করা হয়েছে।

দখলে নেয়ার দিন তার ১০ থেকে ১১ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বাকি লেখার একটি খাতা হারিয়ে গেছে। খাতায় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার হিসাব লেখা ছিল। বকেয়া এই টাকার হিসাবও তিনি পাচ্ছেন না। সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইল দাবি করেন, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এজাজুল হক মানুর ইসারায় তার দোকান দখল করা হয়েছে। ভয়ে তিনি মামলা করতে পারেননি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ কাঠা জমির ওপর তাদের এলাকায় মুসড়াপাড়া জাগরণী ক্লাব নামে একটি ক্লাব আছে। এই ক্লাবটিও দখল করে রেখেছেন আশপাশের দোকানি শহিদুল ইসলাম, মাফিকুল ইসলাম, মাসুদ রানা, শফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। এই জায়গাটিও অ্যাডভোকেট এজাজুল হক মানুর ইন্ধনে দখল করে রাখা হয়েছে বলে দাবি তার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট এজাজুল হক মানু বলেন, ‘আমি কখনও কোন অন্যায় করি না। সব সময় গরীব-অত্যাচারিত মানুষের পক্ষে থাকি। ক্লাবের জায়গাটি দুপক্ষই নিজেদের দাবি করেছে। আইনজীবী হিসেবে আমি বলেছি, যার জমি সে মামলা করো। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’

ইসরাইলের দোকান দখলের বিষয়ে এজাজুল হক মানু বলেন, ‘ওই জায়গাটা খাস জমি বলে জানি। একটা সমস্যা হয়েছিল, এলাকার কিছু ছেলে সেটা নিজেদের দখলে রেখেছিল। পরে ইসরাইল নিজের দোকান ফেরত পেয়েছেন। এর সঙ্গে আমাকে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে জড়াচ্ছে। আমি কিছুই জানি না।’

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ