গাঙপাড়ায় আবারও উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর গাঙপাড়া খালের দুই পাড় থেকে ২৩০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এখন খালের পাড়ে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মানুষের বসার জন্য সেখানে কনক্রিটের বেঞ্চও তৈরি করা হবে।
গতকাল শনিবার পাউবোর ঠিকাদার খালের পাড়ে বেঞ্চ নির্মাণের কাজ করতে গেলে উত্তেজনা দেখা দেয়।বসতির বাসিন্দারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ঠিকাদারের লোকজন ফিরে গেছেন। এ সময় পাউবোর এক কর্মচারীকে বসতিবাসী আটকে রাখেন। পরে অবশ্য তাকে চলে যেতে দেয়া হয়। এই কর্মচারীর নাম জহুরুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী পাউবোর কার্য সহকারী। বসতির লোকজন বলছেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তারা গাঙপাড়ায় বসবাস করেছেন। তাদের যাবার কোনো জায়গা নেই। তারা এখানেই থাকবেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাউবোর কর্মচারী জহুরুল ইসলামকে গাঙপাড়ায় পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। জহুরুল জানান, উন্নয়নমূলক কাজ করতে তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে এসেছিলেন। এলাকাবাসী কাজে বাধা দিয়েছেন। তাই ফিরে যাচ্ছেন।
তীব্র শীতের মধ্যে গাঙপাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তীব্র শীতের কথা বিবেচনা করে উচ্ছেদে বাধা দিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। অবস্থান নিয়েছিলেন এলাকায়। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর খালের দুই পারের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়। বাড়ি-ঘর ভেঙে দেয়ায় খুপরি তুলে কোনো রকমে বসবাস করছিলেন স্থানীয়রা। সেখানে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ নারী-পুরুষ মারা যান।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদ করা ২৩০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ১৫০টি পরিবার কোনোরকমে আবার সেখানে বাড়ি করছেন। বসতিবাসী জানালেন, বসতির সবাই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। টাকার অভাবে এখনও শতাধিক পরিবার বাড়ি করতে পারেননি। এরই মধ্যে সেখানে বেঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। জাহানারা বেগম নামে এক নারী বলেন, আমরা বেঞ্চ চাই না। মাথা গোঁজার জায়গা চাই।
আবদুল মজিদ নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, আমরা খালের পাড়ে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছি। হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়েছি। বিদ্যুতের বিল দিয়েছি। বাংলাদেশে এতো রোহিঙ্গা আশ্রয় পেলে আমরা কেন পাব না? আমরা তো বাংলাদেশেরই নাগরিক। আমরা আমাদের বাসস্থান ছাড়ব না। প্রয়োজনে প্রাণ দিব।
রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম বলেন, খাল সংষ্কারের জন্য গাঙপাড়া বসতি উচ্ছেদ করা হয়েছে। খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে। মানুষের বসার জন্য বেঞ্চ নির্মাণ করে দেয়া হবে। সেই কাজেই স্থানীয়রা বাধা দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এলাকায় এখন কোনো উত্তেজনা নেই।

শর্টলিংকঃ