গভীর রাতে প্রকৌশলীকে ধরে টাকা আদায়!

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর ওয়াসা ভবন এলাকায় চার বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন প্রকৌশলী রেইন। ওই সময় ধুমপান করছিলেন তারা। সেখান দিয়ে যাচ্ছিল নগরীর বিসিক পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল। মাদক সেবনের কথিত অভিযোগে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গিয়ে তাদের আটক করেন। এরপর গাড়িতে তুলে চারজনকে নিয়ে যান ফাঁড়িতে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই এসআই প্রকৌশলী রেইনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে নগরীর উপশহর এলাকার ডাচবাংলা ব্যাংকের বুথে যান। সেখান থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে রেইনকে তার বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে আসেন। বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রকৌশলী ছাড়া পেলেও তার বন্ধু সাইদ, বকুল, নাঈম ও জয়নাল ছাড়া পাননি। এদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইদকে আরএমপি অধ্যাদেশে চালান দেয়া হয়েছে। বাকি তিনজনকে চালান দেয়া হয়েছে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মাদকের মামলায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার জয়নাল নগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রকৌশলী রেইন নগরীর ল²ীপুর ডিঙাডোবা এলাকার বাসিন্দা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়ার প্রকৌশলী হিসেবে তিনি কর্মরত। আর সাইদ, বকুল ও নাঈম নগরীর ওয়াসা সংলগ্ন ফিরোজাবাদ এলাকার বাসিন্দা। এদের সবার বয়স ৩০ বছরের মধ্যে। ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এসআই আবদুল করিম। তাদের ছাড়িয়ে নিতে রাতভর তদবিরও চলেছে। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় ছাড়তে রাজি হননি ফাঁড়ির ইনর্চাজ। তবে ৫ হাজার টাকা দেয়ায় মাদকের মামলা না দিয়ে আরএমপি ধারায় চালান দেয়া হয়েছে সাইদকে।
অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই আবদুল করিম বলেন, মাদকসেবনরত অবস্থায় যে চার জনকে আটক করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে সব মিলিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে চালান দেয়া হয়। আটকের পর টাকা নিয়ে মাদকব্যবসায়ীকে এবং বুথ থেকে টাকা তুলে প্রকৌশলীকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন এসআই আবদুল করিম।
তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস।

শর্টলিংকঃ