গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে হবে হার্ট ফাউন্ডেশনের এজিএম!

  • 32
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার। স্থগিত করে দেয়ার পর সভাটি আবার ভার্চুয়ালি জুম প্লাটফর্মে আয়োজন করা হচ্ছে। অথচ এখানে সকল সদস্য অংশ নিতে পারবেন না। এ নিয়ে রাজশাহীর আজীবন সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আর এই অনলাইনে বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের বিষয়টিকে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে সেই আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে। একই নোটিশে আবার সভাটি ভার্চুয়ালি আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন রওশন নোটিশে সই করেছেন।

সেই নোটিশে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকারি নির্দেশনার আলোকে আহ্বান করা সাধারণ সভা স্থগিত করা হলো। আবার একই নোটিশে বলা হয়েছে, অনলাইনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সাধারণ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় আলোচ্যসূচি হিসেবে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অনুমোদন; কোষাধ্যক্ষের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অনুমোদন’ আর্থিক বিষয়াদি নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষক নিয়োগ, ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন ও অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখা হয়েছে। অথচ সভায় সিংহভাগ সদস্য অংশ নিতে পারবেন না। তাই তাঁদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীতে নির্র্বাহী কমিটি ছাড়াও প্রায় পৌনে ৬০০ জন আজীবন সদস্য আছেন। বার্ষিক সাধারণ সভায় সকলের অংশ নেয়ার কথা। অথচ অনলাইনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সভার আয়োজন করা হচ্ছে। হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর গঠনতন্ত্রে আছে- তলবী সভা ব্যতিত অন্যান্য সভার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিটের মধ্যে কোরাম না হলে সভা মূলতবি হবে। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর ওই দিন মূলতবি সভা অনুষ্ঠিত হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সাধারণ সভায় কেবল দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা যাবে। অথচ ভার্চুয়াল সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে না।

আজীবন সদস্যরা বলছেন, সরকারের আর্থিক অনুদানে রাজশাহীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ভবন নির্মাণের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। তা দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু বিশেষ মহলের নগরীর লক্ষ্মীপুরে উচ্চ ভাড়ায় ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত জনবলও। সেটি এখন লোকশানে চলছে। ভবন নির্মাণের টাকা এনে লোকশানের খাতে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন যাতে না হয় তার জন্য কমিটির একাংশ পাঁয়তারা করছেন। আর এ কারণে সাধারণ সভা সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। তারা এ সভা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর আজীবন সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্য গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে ভার্চুয়াল সভা আহ্বান করা হয়েছে। বিশেষ মহলের সুবিধায় গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্যই এই সভা। নিয়মনীতি বহির্ভুত এ সভায় অন্তত ৫০০ জন সদস্য তাঁদের মতামত প্রদান করতে পারবেন না। তিনি বার্ষিক সাধারণ সভার মতো গুরুত্বপূর্ণ এই সভা অনলাইনে না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনলাইনে এমন গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা ঠিক হচ্ছে না বলে মনে করেন খোদ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন রওশন। তবুও অনলাইনে সভা আহ্বানের নোটিশে স্বাক্ষর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতি, একজন যুগ্ম সম্পাদক এবং সহসভাপতি পেশাগত কারণে ঢাকায় থাকেন। তারা এ সভা ভার্চুয়ালি করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি সভা আহ্বান করেছেন। তবে এই সভায় সবাইকে নেয়া সম্ভব নয় বলে এভাবে আয়োজন করাও ঠিক নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সভাটি পুরোপুরি স্থগিত রাখা প্রয়োজন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবাইকে নিয়ে সভা করা দরকার।

এদিকে বার্ষিক সাধারণ সভায় আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা থাকলেও কোষাধ্যক্ষ হাসেন আলীও প্রস্তুত নন। বুধবার বিকালে তিনি বলেন, হার্ট ফাউন্ডেশনের অফিস থেকে আমাকে এখনও কোন কাগজপত্র দেয়া হয়নি। আমি কীভাবে আর্থিক প্রতিবেদন দেব? তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এই সভা স্থগিত রাখা ঠিক হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবাইকে নিয়েই সভা করা উচিত হবে।

উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে এভাবে ভার্চুয়াল সভা আয়োজন করার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি ফোনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর আরও কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ