খেলাপি হওয়ার পর জাল জাতীয়পত্রে আবার ঋণ!

অনলাইন ডেস্ক: খেলাপি হওয়ার পর ঘুষ দিয়ে জাল জাতীয়পত্র তৈরি করে আবার ঋণ নেয়ার অভিযোগে এক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে ৫ বছর ধরে কাজ করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪১)। করোনাকালে তার চাকরি চলে যায়। তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হন। পুনরায় ঋণ পেতে একটি চক্রের মাধ্যমে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। এই চক্রের মাধ্যমেই ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সিটি ব্যাংকের নিকেতন শাখা থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ঋণ নেন। ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির জন্য এক লাখ টাকা ছাড়াও তাকে দিতে হয়েছে ঋণের শতকরা ১০ ভাগ টাকা।

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকা থেকে দ্বৈত, জাল ও ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন উত্তোলনে সহায়তাকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের (ডিবি) সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. সুমন পারভেজ (৪০), মো. মজিদ (৪২), সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর (৩২), মো. আনোয়ারুল ইসলাম (২৬) ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪১)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দ্বৈত, জাল ও ডুপ্লিকেট ১২টি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

শনিবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের ডি-ব্লক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

‍ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মধুসূদন দাশ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ব্যাংকের লোন নিয়ে কেউ ঋণ খেলাপি হলে তাদের সিআইবি খারাপ হয় ফলে পুনরায় তারা ব্যাংকে লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন না। তখন গ্রেপ্তার সুমন ও মজিদ ঋণ পাইয়ে দেবে মর্মে প্রথমে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নন। ঋণ পাওয়া গেলে ১০ শতাংশ কমিশন দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তিতে একমত হলে তারা প্রথমে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতেন। এ জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতেন তাদের অপর সহযোগী সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তারা প্রত্যেকটি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি বাবদ ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা নিতেন।

পুলিশ জানায়, সিদ্দার্থ শংকর সূত্রধর ও আনোয়ারুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের অধীনে খিলগাঁও ও গুলশান অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। এ সুবাদে তারা নির্বাচন কমিশন অফিসের সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে পারতেন।

তারা এ পন্থা অবলম্বন করে এমন অনেককে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন উত্তোলন করে দিয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা হয়েছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ