ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য বিশেষ প্রণোদনা জরুরি

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দেশে উন্নয়ন-অগ্রগতির নানা উদ্যোগ চোখে পড়লেও সেখানে স্থান না পেয়ে পিছিয়েই থাকতে হচ্ছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে। ক্রমেই মূল ধারার সাথে তাদের দূরত্ব বাড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে আত্মপরিচয়, ভাষা-সংস্কৃতি। করোনাকালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।

এ উপলক্ষে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বাধীন ভূমিকমিশন, করোনা সঙ্কটে আদিবাসীদের জন্য পৃথক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা, র‌্যালি, মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে বিভিন্ন দলমতের মানুষও।

এসব অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা সহায়তা ছাড়াও তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের ভূমি জবরদখল ও চিরায়ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার হীন উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িক হুমকি, নারী নির্যাতন, হত্যা, অপহরণসহ সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছরেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দূর্বিসহ জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে বার বার সমতলের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তার বাস্তায়নের পদক্ষেপ না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আলোচকরা।

সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকায় তারা পুরোপুরি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিছু বরাদ্দ পেলেও সমতলের জন্য কিছুই থাকে না। তাই সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়ের অপরিহার্যতার পক্ষেও জোরালো বক্তব্য শোনা গেছে।

করোনা সংকট ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষকে কর্মহীন করে তাদের জীবন-জীবিকার সঙ্কট বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রণোদনা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ উদ্যোগ বিলম্বিত হলে এসব প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এর মধ্যেই সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রায় ৭০ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। ‘কাউকে পেছনে ফেলে রাখা নয়’ এসডিজির এই স্লোগান বাস্তবায়নেও এই প্রণোদনা খুবই জরুরি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ