ক্রেতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টায় অসাধু ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি থেকে বের হবেন না বলে অতিরিক্ত পণ্য কিনছেন। সৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত চাহিদা। আর এই সুযোগে ক্রেতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা শুরু করেছেন রাজশাহী নগরীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা বাড়িয়ে দিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম।
এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারপরেও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৈরাত্ম্য থামছে না। উল্টো ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যাপক হারে জরিমানা করার অভিযোগ তুলে গতকাল শনিবার নগরীর সাহেববাজার এলাকার কাঁচাবাজার ও সাহেববাজারের মুদি দোকানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর অবশ্য এই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুরে রাজশাহী মহানগর কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান মালিক সমিতির সভা শেষে সভাপতি ফাইজুল ইসলাম দোকানপাট বন্ধের ঘোষণা দেন। এরপর বাজার এলাকায় সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, রোববার থেকে মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার এবং সাহেববাজারের সকল মুদি দোকান বন্ধ থাকবে।
খবর পেয়ে বাজারে যান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। তিনি কাঁচাবাজার ব্যাবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে কাঁচাবাজার খোলা রাখার জন্য বলেন। তিনি কাঁচামাল ব্যাবসায়ীদের বলেন, মালামাল বাজার দর হিসেবে বিক্রি করতে হবে। একজন ক্রেতাকে যতটুকু দেয়ার প্রয়োজন ততটুকুই দিতে হবে। কেউ বেশি চাইলেও দেয়া যাবে না। পরে তাদের বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করেন।
দাম বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান মালিক সমিতির সভা শেষে সভাপতি ফাইজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা যে দামে পণ্য কিনছি, তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মালামাল কেনার রশিদ দেখিয়েও লাভ হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানে পড়ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
জানতে চাইলে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের কোনো জরিমানা করা হচ্ছে না। আমরা কেবল অসাধু ব্যবসায়ীদের আইন মেনে অর্থদÐ দিচ্ছি। এতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমরা বাজারে অবস্থান করে মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যের মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহŸান জানান তিনি। তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে না বলেও তিনি মনে করেন।

শর্টলিংকঃ