ক্যাশ আউট খরচ নিয়ে নগদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস)-এ ভ্যাটসহ কী পরিমাণ টাকা কাটা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে গ্রাহকদের জানাতে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে।

ধারণা করা যায়, গত ০১ অক্টোবর থেকে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ -এর ভ্যাট ছাড়া এবং নানা শর্তের আড়ালে ক্যাশ আউট খরচ এক অংকে নামিয়ে আনার বিভ্রান্তিকর প্রচারণাটির প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনাটি দিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোন গ্রাহক ভোগান্তিতে না পড়েন। তবে এখনও নগদ তার সেই বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণাটি অব্যাহত রেখেছে।

বড় সংখ্যাকে কম করে দেখাতে খন্ডিত তথ্য দেখানোর কৌশল ব্যবহার করেছে নগদ তার প্রচারণায়। বিজ্ঞাপনে জোর দিয়ে প্রচার করা ৯.৯৯ টাকার ক্যাশ আউট অফারটি প্রকৃতপক্ষে ভ্যাট ছাড়া। ভ্যাট সহ ইউএসএসডি দিয়ে ক্যাশআউটে গ্রাহককে দিতে হচ্ছে ১৪.৯৪ টাকা আর অ্যাপে ১১.৪৯ টাকা যার কোনটাই এক অংকের না। তাদের ওয়েবসাইটেও এই তথ্যটি দেয়া আছে। এর পরেও আছে শর্তের বেড়াজাল। একজন গ্রাহক ২১০০ টাকা বা তার বেশী ক্যাশ আউট করলেই কেবল এই অফারটি তার জন্য প্রযোজ্য হবে। ২১০০ টাকার কম ক্যাশ আউটে গ্রাহকের খরচ আগের মতই অ্যাপে ১৭.৫০ টাকা এবং ইউএসএসডিতে ১৮.৫০ টাকা থাকছে। এদিকে মোবাইল আর্থিক সেবায় গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য বলছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গ্রাহক ২১০০ টাকার বেশি পরিমাণের টাকা ক্যাশআউট করে থাকেন। অর্থাৎ, প্রায় ৭০ ভাগ গ্রাহক যারা মূলত নিম্ন আয়ের তারাই এই সেবার বাইরে থাকছেন। তাই ঢাকঢোল পিটিয়ে ক্যাশ আউট খরচ এক অংকে নামিয়ে আনার ঘোষণাটি এক ধরণের ধাপ্পাবাজি, বলছেন গ্রাহকরা।

এসব প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার এ বলা হয়েছে, সার্ভিস চার্জ/মাশুল হার সংক্রান্ত বিভ্রান্তি পরিহারকল্পে বিভিন্ন গণযোগাযোগ (সংবাদপত্র, পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদি) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন ইত্যাদি) প্রচার প্রচারণাসহ সকল ক্ষেত্রে ভ্যাট সহ সার্ভিস চার্জ/মাশুল হার উল্লেখ করতে হবে।

অথচ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লক্ষ্য করা গেছে নগদ টিভি বিজ্ঞাপন সহ তাদের ফেসবুক পেইজ এবং অন্যান্য মাধ্যমে এখনো বড় করে ৯ লিখে পাশে ছোট করে .৯৯ লিখে সবচেয়ে কম খরচের ক্যাশ আউট শিরোনামে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে। বড় তারকা দিয়ে প্রচারণা এবং নানান রকম কৌশলে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টায় বড় অংকের অর্থ খরচ করছে প্রতিষ্ঠানটি যা সাধারণ গ্রাহকদের মনেও ক্ষোভ তৈরি করেছে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ