ক্যান্সারে মলিন মেধাবী মুখ

স্টাফ রিপোর্র্টার: ক্যাম্পাসে সব সময় হাশিখুশি থাকতেন। পড়াশোনায় ছিলেন খুব মনোযোগী। মেধাবী মুখ হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত। সেই মুখটি এখন মলিন হয়ে গেছে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় এখন তার প্রতিটি দিন কাটছে হাসপাতালের বিছানায়।

দেশসেরা রাজশাহী কলেজের মেধাবী এই ছাত্রীর নাম ফাতেহাতুল আম্বিয়া। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তিনি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পীরগাছা গ্রামে। বাবা সাইফুল ইসলাম আনসার ব্যাটেলিয়নের একজন কর্মচারী। মেয়ের চিকিৎসার জন্য জমানো যে টাকা ছিল তিনি সবই শেষ করেছেন। সহায়-সম্বল যা ছিল সেগুলোও বিক্রি করেছেন।

এখন অর্থের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম আম্বিয়ার চিকিৎসা। বর্তমানে তিনি ভারতের কলকাতার নিউটাউনে এইচসিজি ইকো ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- আম্বিয়ার পূর্ণ চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি প্রায় ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা হাসপাতালে পরিশোধ করেছেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম। এখন আর পারছেন না।

কলকাতায় থাকা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, অসুস্থতার জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি আম্বিয়াকে কলকাতায় নিয়ে যান। সেখানে তার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর সরজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে দুই মাস চিকিৎসা করান। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে মে মাসে মেয়েকে নিয়ে দেশে ফেরেন। এরই মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবশেষে গত ২৭ নভেম্বর মেয়েকে নিয়ে আবার কলকাতার ওই একই হাসপাতালে যান।

সেখানে তার ব্রনমেরু পরীক্ষার রিপোর্ট খারাপ পাওয়া যায়। তাই চিকিৎসক তাকে এইচসিজি ইকো ক্যান্সার সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। এই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ব্রনমেরু ট্রান্স প্লান্ট করার পরামর্শ দেন। ৪৫ দিনের এই চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫০ টাকা খরচ হবে বলেও তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। সাইফুল ইসলাম মেয়ের চিকিৎসা শুরু করেছেন। হাসপাতালে ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা দিয়েছেন। ওষুধ কিনেছেন আরও প্রায় এক লাখ টাকার। কিন্তু এখন আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী। সম্ভাবনাময় এই মেয়ের জীবন বাঁচাতে আমি নগদ আর ব্যাংকে রাখা সব টাকা শেষ করেছি। সহায়-সম্বলও বিক্রি করেছি। এখন আর পারছি না। হয়ত আর সম্ভবও না। আমাকে মাঝপথেই থেমে যেতে হবে। মেয়ের অকাল মৃত্যু দেখতে হবে। একজন বাবার কাছে এটা অনেক কষ্টের। এর চেয়ে কষ্টকর কিছু নেই।

ফাতেহাতুল আম্বিয়া পরীগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসিতে বৃত্তি পেয়েছিলেন। আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতেও পেয়েছিলেন বৃত্তি। এই স্কুল থেকে এসএসসিতে পেয়েছিলেন জিপিএ-৫। এইচএসসিতে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে পেয়েছিলেন জিপিএ-৪.৯২। রাজশাহী কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ। তৃতীয় বর্ষে ধরা পড়ে ক্যান্সার।

এখন মাঝপথে আম্বিয়ার জীবন থেমে যাবে, এটা মানতে পারছেন না তার বাবা। তাই তিনি মেয়ের জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের রাজশাহীর পবা শাখার সঞ্চয়ি হিসাব নম্বর- ৪৬১৪৪০১০১০৩৮৪ এ সহায়তার অর্থ পাঠানো যাবে। বিকাশ করা যাবে ০১৭১৪২৪৩০৩৬ নম্বরে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ