কে হবেন বাফুফের উত্তরসূরি?

অনলাইন ডেস্ক: রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন। এই নির্বাচনে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সম্মিলিত পরিষদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদ। আর সভাপতি পদে সালাউদ্দিনের বিপক্ষে লড়বেন শফিকুল ইসলাম মানিক।

এরইমধ্যে বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ৩৬ দফা ইশতেহার দিয়েছে। সভাপতি পদে আরেক প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক দিয়েছেন ২১ দফা ইশতেহার। বৃহস্পতিবার ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে সমন্বয় পরিষদ।

সম্মিলিত পরিষদের ব্যানারে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ২১টি পদে মনোনয়নপত্র তুলেছেন সালাউদ্দিন। বরাবরের মতো এই পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি পদে রয়েছেন আবদুস সালাম মুর্শেদী। একই পদে লড়বেন তিনবারের সহসভাপতি ও আবাহনী লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ।

সহসভাপতির বাকি তিন পদে প্রথমবারের মতো মনোনয়নপত্র তুলেছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান, তমা কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বাবু। এ ছাড়া সদস্য পদে আছেন আরো ১৫ জন। সব মিলিয়ে ২১ জনের সম্মিলিত পরিষদ।

সম্মিলিত পরিষদের ব্যানারে ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হয়েছে। সেই ইশতেহারে আগামী চার বছরে ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছে এই পরিষদ। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ফুটবল দল, ঘরোয়া ফুটবল, মহিলা ফুটবল, উন্নয়ন প্রকল্প ও বিভিন্ন টেকনিক্যাল দিকগুলোর উন্নয়ন। আছে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৫০-এর ভেতরে নেওয়ার পরিকল্পনা।

এই পরিষদের বিপক্ষে সমন্বয় পরিষদ লড়বে ১৯ জনের দল নিয়ে। এর নেতৃত্বে আছেন সিনিয়র সহসভাপতি পদে লড়াই করতে যাওয়া শেখ মোহাম্মদ আসলাম। তাদের ২৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে আছে ফুটবলে ১২ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা। জেলা ও উপজেলায় লিগ, বয়সভিত্তিক ফুটবল, সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা কাপ নিয়মিত আয়োজন করা। আর পেশাদার ফুটবল লিগকে ঢেলে সাজানো পরিকল্পনা তাদের।

এছাড়া সমন্বয় পরিষদের ইশতেহারে আছে প্রতি জেলায় শহীদ শেখ রাসেলের নামে জাতীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন, আন্তস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট আয়োজন। করপোরেট লিগ আয়োজন, জাতীয় দলের জন্য চার, আট ও ১২ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি ও খেলোয়াড়দের ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা করতে চায় তারা।

এছাড়া আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে সাফের শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকবে এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ কামাল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় সমন্বয় পরিষদ।

সম্মিলিত পরিষদ ২১ পদের সবকটিতে প্রার্থী দিলেও সমন্বয় পরিষদ সভাপতি ও একটি সহসভাপতি বাদে ১৯টি পদে লড়বে।

সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল: সভাপতি : কাজী মো. সালাউদ্দিন।

সিনিয়র সহসভাপতি: আবদুস সালাম মুর্শেদী।

সহসভাপতি: ইমরুল হাসান, কাজী নাবিল আহমেদ, আমিরুল ইসলাম বাবু ও আতাউর রহমান মানিক।

সদস্য: হারুনুর রশিদ, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, সত্যজিৎ দাশ রুপু, ইলিয়াছ হোসেন, বিজন বড়ুয়া, অমিত খান শুভ্র, ইকবাল হোসেন, মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, মো. জাকির হোসেন, মাহফুজা আক্তার কিরণ, আসাদুজ্জামান মিঠু, কামরুল হাসান হিলটন, সৈয়দ রিয়াজুল করিম, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ ও নুরুল ইসলাম নুরু।

সমন্বয় পরিষদের প্যানেল:

সিনিয়র সহ-সভাপতি: শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

সহসভাপতি: মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান ও শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান।

সদস্য: ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, শাকিল মাহমুদ চৌধুরী, আরিফ হোসেন মুন, আমের খান, সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল, মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, টিপু সুলতান, আ ন ম আমিনুল হক মামুন, মঞ্জুরুল আহসান, মহিদুর রহমান মিরাজ ও মিজানুর রহমান মিজান (সদস্য)।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ