কিশোর অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসি, চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ১৪ কিশোরের বিচার শিশু আদালতে হবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এই হত্যার ঘটনায় আসামিদের নির্মমতা মধ্যযুগীয় কায়দাকেও হার মানিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ আসামিদের প্রায় সবাই তরুণ ও কিশোর বয়সের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। তারা কিভাবে এমন নির্মমতায় জড়িয়েছে সেটা সবার জন্যই চিন্তার বিষয়।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ এলাকায় দিনে দুপুরে জনসমক্ষে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই ঘনিষ্ঠ একদল তরুণ। এতে নেতৃত্ব দেয়া নয়ন বন্ড ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এলাকায় একটি সন্ত্রাসী দল গড়ে তুলেছিল শতাধিক তরুণ নিয়ে যার অধিকাংশই ছিল স্কুলের ছাত্র। ঘটনার এক সপ্তাহ পর পুলিশের সঙ্গে এক ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ সে নিহত হয়। নয়ন বন্ডের জিরো জিরো সেভেন (০০৭) নামের কিশোর গ্যাংয়ের সবাই এলাকায় বখাটে বলেই পরিচিত। ছিনতাই, মাদক, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবসাসহ তারা নানান ধরনের অপরাধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বরগুনা থানায় মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়নের নামে সাতটি মামলা ছিল। খুনের ঘটনার পর তার মৃত্যু নিয়েও নানা কথা শোনা যায়।

বরগুনার মতো মফস্বল এলাকার তরুণ-তরুণীদের এই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বছরের পর বছর চললেও এ নিয়ে কারও তেমন মাথা ব্যথার কথা শোনা যায়নি। মিন্নির সাথে একই সঙ্গে রিফাত ও নয়নের বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতায় খুনের ঘটনা নিয়েও কম কথা শোনা যায় না। তবে খুনের আগে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সমাজপতি, প্রশাসন, রাজনৈতিক, মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। তখন প্রকাশ্যে খুনের ঘটনা মানুষ তখন চেয়ে চেয়ে দেখেছে, ভিডিও করেছে কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি, এমন ভীতিকর অবস্থাও সৃষ্টি হতো না।

কিশোর গ্যাংয়ের এমন ভূমিকা রাজধানীসহ কম বেশি দেশের বিভিন্ন স্থানেই দেখা যায়। সমাজের প্রভাবশালী ও রাজনীতিকদের সাথে সুসম্পর্কের কারণে তাদের ব্যাপারে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের চোখ বুঁজে থাকার কথাও মোটেই অজানা নয়। এমন অবস্থা সৃষ্টির কারণ এবং পেছনে ভূমিকা পালনকারীদের বিষয় আড়ালে থেকে যাওয়াতেই যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেটা না বললেও চলে।

তাই রিফাত হত্যা মামলার রায় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এই নির্মম ঘটনার পেছনের কারণ তথা সামাজিক-রাজনৈতিক দিকটাও সামনে আসা জরুরি। এ ছাড়া কিশোর অপরাধ দমনের কার্যকর পদক্ষেপ আশা করাটা কঠিনই।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ