কালজয়ী গানের রচিয়তার তালগাছ আর বাঁধানো পুকুরই স্মৃতিচিহ্ন

  • 13
    Shares

কলিট তালুকদার,পাবনা: ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি… বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ কিংবা বাঙালি হৃদয় জয় করা, বিবিসি জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আধুনিক বাংলা গান কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ আমার গানের স্বরলিপি, মাগো ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে,বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি,ও নদীরে একটা কথা শুধাই শুধু তোমারে,এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়, এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু,এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন,কেন দুরে থাকো, শুধু আড়ার রাখো কে তুমি কে তুমি আমায় ডাকো, এই পথ যদি না শেষ হয় এধরনের বহু কালজয়ী গানের রচয়িতা গৌরী প্রসন্ন মজুমদার। আজ ৫ ডিসেম্বর তার জন্মদিন। ১৯২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরে জন্ম গ্রহন করেন গৌরী প্রসন্ন মজুমদার। কালের প্রবাহে ধ্বংস হয়েছে এই গীতি কবির পৈতৃক ভিটার সবটুকু স্মৃতিচিহ্ন। স্থানীয়দের দাবী, এই গীতি কবির স্মৃতি ধরে রাখতে জন্মভিটায় সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হোক।

জানা যায়, আধুনিক বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অধিকাংশ গানের গীতিকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদার। বাণী আর ছন্দের অভাবনীয় মেলবন্ধনে, কখনো উত্তম সুচিত্রার ঠোঁটে, কখনো হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, শচীন দেব বর্মন কিংবা আশা ভোঁসলের কন্ঠে তার লেখা অসংখ্য গান বাঙালিকে আজও নিয়ে যায় স্বপ্নের দুনিয়ায়।

১৯২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরে জন্মগ্রহণ করেন গৌরি প্রসন্ন মজুমদার। তাঁর বাবা উদ্ভিদবিদ গিরিজা প্রসাদ মজুমদার। দেশবিভাগের পর ১৯৬৫ সালে স্বপরিবারে চলে যান ওপার বাংলায়। গৌরি প্রসন্নের পৈতৃক বাড়িটি এখন ৫০ শয্যার ফরিদপুর সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্মৃতিচিহ্ন বলতে রয়েছে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি তালগাছ আর একটি ঘাট বাঁধানো পুকুর। অনেকেই জানেনা এটাই তার পৈত্রিক ভিটা। এখানে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলার দাবী স্থানীয়সহ নানা স্থান থেকে আসা দর্শণার্থীদের।

গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের দুঃসম্পর্কের স্বজন বাবলু লাহিড়ী বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে একবার জন্মভূমিতে এসেছিলেন। তার পরে আর কখনো ফিরে আসেননি এই ভূমিতে। তার দাবী, কীর্তিমান এই মানুষটির স্মৃতি ধরে রাখতে

তার জন্মভূমিতে একটি সংগ্রহশালা করা প্রয়োজন। তাতে আগামি প্রজন্ম হয়তো জানতে পারবে এই মানুষটির সম্পর্কে।  আর স্থানীয়রা দাবী করেন,কালজয়ী এই মানুষটির জন্মস্থান জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের থাকার জন্য সম্প্রতি সেখানে বেশ কয়েকটি নতুন নতুন ভবন তৈরী হয়েছে। সেই ভবনের একটির নামকরন গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের নামে করা হোক।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে উজ্জীবিত করা প্রখ্যাত এই সংগীতযোদ্ধার স্মৃতি ধরে রাখতে ইতোমধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি লাইব্রেরি তার নামানুসারে দেওয়া হয়েছে এবং পৌর এলাকার একটি সড়ক তার নামে করার বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট এই মানুষটি কলকাতায় থাকাবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সন্মাননা’ জানানো হয়। এদিকে শনিবার সন্ধায় কালজয়ী এই গীতিকারের জন্ম বাষিক উপলক্ষে পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভার অয়োজন করা হয়েছে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ