কাটছে না সাপ্লাই পানির সমস্যা

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহী ওয়াসার যাত্রা দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাটছে না সাপ্লাই পানির সমস্যা। সাপ্লাই পানি নিয়ে নানান অভিযোগ রয়েছে মানুষের। কখনো পানি প্রবাহের ধীর গতি, কখনো দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি আবার সাপ্লাইয়ের সময় নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ কোন কোন সময় এতই ধীর গতিতে পানি আসে যাতে করে প্রয়োজনীয় পানির অপেক্ষায় নষ্ট হয় অনেক সময়। সেই সাথে বিড়ম্বনা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি যা পান করা দূরে থাক গৃহস্থালির কাজেও ব্যবহারের অনুপযোগী। বিকল্প না থাকায় মানুষ নিরুপায় হয়েই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে এই পানি। এই পানি ব্যবহার করে অসুস্থ হতে পারে এমন শঙ্কা মানুষের। ওয়াসার পানি নিয়ে সন্তোষ্ট নন এমন অনেক গ্রাহক অভিযোগও করেছেন কতৃপক্ষকে। কিন্তু মেলেনি প্রতিকার। হঠাৎ কোন সময় পরিষ্কার পানি পাওয়া গেলেও তা হয় খুবই ক্ষণস্থায়ী। নগরীর হড়গ্রাম এলাকার আবুল বাসার নামে একজন গ্রাহক জানান তার বাড়িতে যে পানি আসে তা কোন ভাবেই ব্যবহার উপযোগী নয়। তিনি বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন প্রতিকার পাননি।
মহিষবাথান এলাকার অবসরপ্রাপ্ত এক কলেজ শিক্ষকও সাপ্ল¬াই পানি নিয়ে দুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন। কুমারপাড়া এলাকার মনোজ জানান, পানিতে আয়রনের আধিক্যের কথা। মাত্রাতিরিক্ত আয়রনের কারণে পাত্রে ধরে রাখা পানিতে কিছুক্ষণ পর ভেসে থাকে দলা দলা আয়রন। কোন কোন সময় কালো শেওলাও পাওয়া যায় পানির মধ্যে। তবে কোন কোন এলাকার মানুষ জানান, দুপুরের দিকে পরিষ্কার পানি পেয়ে থাকেন তারা।
এদিকে উন্নত ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ বিভাগ ভেঙে রাজশাহী ওয়াসার যাত্রা শুরু হয়। ওয়াসা গঠনের পর গাহক উন্নত সেবার আশা করলেও কার্যত সে আশা পূরণ করতে পারে নি ওয়াসা। ওয়াসার সংযোগের পরিধি এবং পানির বিল বাড়ানো হলেও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী। ওয়াসা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক সময় নগরীতে সোচ্চার হয়েছিল মানুষ। মানুষের আশা ছিল সিটি কর্পোরেশন থেকে পৃথক ওয়াসা স্থাপন হলে পানি ব্যবস্থাপনায় মানুষ অধিক সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু ওয়াসা মানুষের সে আশা পুরনে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্গন্ধ আর ময়লা পানি মানুষের নিত্য ব্যবহার্য হয়ে পড়েছে।
সাপ্লাই পানির সময় নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে তাদের অভিযোগ এখন গ্রীষ্মকাল শুরু হলেও সাপ্লাই পানির সময় রয়েছে আগের মতই অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। কিন্তু এখন সন্ধ্যা হচ্ছে পোনে ৭ টায়। কাজেই সাপ্লাই পানির সময় বাড়ানো জরুরি এমনই মন্তব্য করলেন হোটেল ব্যবসায়ী সারওয়ার্দী।
পানি সরবরাহের সময় ও পানির সমস্যা নিয়ে শুক্রবার রাতে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হোদা কোকোর সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পানি সরবরাহের সময় বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা অতি শিঘ্রই সিদ্ধান্ত নিবো। তবে ময়লা পানির বিষয়ে বলেন রাজশাহীর পানিতে অতিরিক্ত আয়রনের কারণে সরবরাহ লাইনে তা জমে গিয়ে কোন কোন সময় পানি ময়লা হয়। নগরীতে মূলত ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করেই গ্রহকের পানির চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। তিনি বলেন তবে অন্য যে কোন সিটির তুলনায় রাজশাহীতে পানির সমস্যা অনেক কম। তিনি বলেন, গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি নির্ভর যে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হচ্ছে এটা হলে রাজশাহীতে পানির আর কোন কমপ্লেইন থাকবে না।

শর্টলিংকঃ