কাউকে ছোট করা আল্লাহ পছন্দ করেন না: ফারিয়া

অনলাইন ডেস্ক: হারুন অর রশদি অপুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার। শুক্রবার অপু-ফারিয়া দুজনেই ডিভোর্স পেপারে সই করেন। এরপর শনিবার ফেসবুকে একটি লম্বা স্ট্যাটাস দিয়ে সেই খবর প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। সেখানে ফারিয়া লেখেন, অপুর সঙ্গে তার ডিভোর্স হলেও তাদের বন্ধুত্বটা বজায় থাকবে সারাজীবন।

ব্যাস, খুব অল্প সময়েই ফারিয়ার এই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে যায় এবং তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের ট্রোল। অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ লিখেন, ‘আগেই জানতাম এই বিয়ে টিকবে না।’ কেউ লিখেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পরে তাদের মধ্যে কীভাবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় থাকে! এটা হাস্যকর।’

এরকম আরও নানা নেতিবাচক মন্তব্যে ভরে গেছে কমেন্ট বক্স। সেসব নেতিবাচক মন্তব্যের বিরুদ্ধে রবিবার ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘তার মানে কী দাঁড়ালো, মানুষ ব্লেইম গেইম, গালি-গালাজ, মানুষকে ছোট করা পছন্দ করে! বিচ্ছেদ কেন সুন্দর হবে!!! কেন বলবে আমরা বিচ্ছেদের পরও বন্ধু থাকবো!!!’

অভিনেত্রী লিখেন, ‘যেই মানুষটা গত ৫ বছর ধরে আমার জীবনের সাথে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে জড়িয়ে ছিল, এত এত স্মৃতি যা চাইলেই মোছা যাবে না তাকে কীভাবে ছোট করি? অবশ্যই মানুষটার সাথে আমার যথেষ্ট কারণ না থাকলে বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্তে আসতাম না। কাউকে অসম্মান করে যেমন কেউ বড় হতে পারে না তেমনি আমাদের কাছের সবাই ও পরিবার জানে কেন এই সিদ্ধান্তে আসা! তার বাইরে কাউকে কোনো ধরনের এক্সপ্ল্যানেশন দেয়ার কোনো দরকারই নাই ! আমরা চাইও না কাউকে জানাতে। কিন্তু ভুয়া ‘একি করলেন শবনম ফারিয়া’ নিউজ না দেখার জন্যে আমরা জানাতে বাধ্য হই!’

অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, ‘প্লিজ মাথায় নেন, শেষটাও সুন্দর হতে পারে। শেষটাও সম্মান দিয়ে ভালোবাসার সাথে শেষ হতে পারে। আমার কষ্ট, আমার অভিমান সব আমার কাছেই থাক। সবাই একটা কথা মনে রাখবেন, কাউকে ছোট করা আল্লাহ কখনোই পছন্দ করেন না।‘

২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে হারুন অর রশীদ অপুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল শবনম ফারিয়ার। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের সেই পরিচয় বন্ধুত্বে রূপ নিতে সময় লাগেনি। এরপর তারা প্রেমের সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন।

এর তিন বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অপু ও ফারিয়ার আংটি বদল হয়। তারা বিয়ে করেন গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি। মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের চোখজুড়ানো অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘জল-জোছনা’য় খোলা আকাশের নিচে বসেছিল তাদের বিয়ের নান্দনিক আসর। আনুষ্ঠানিক বিয়ের ঠিক ১ বছর ৯ মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ হলো।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ